ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:১০ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘গণগ্রেফতার বন্ধে হিউম্যান রাইট ওয়াচের আহ্বান’

চলমান গণগ্রেফতার বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

‘জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী’ সাঁড়াশি অভিযানে দেশজুড়ে হাজারো মানুষ গ্রেফতার হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এইচআরডব্লিউর কাছ থেকে এ বিবৃতি এল।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উচিত মুক্তমনা লেখক, সমকামী অধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। কিন্তু অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া লোকজনকে অযৌক্তিকভাবে গণহারে গ্রেফতার এক্ষুণি বন্ধ করা উচিত।

আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা গত ১০ থেকে ১৬ জুনের মধ্যে অন্তত ১১ হাজার মানুষকে আটক করেছে।

humanright1

এইচআরডব্লিউ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ সাপেক্ষে হয় গ্রেফতার হওয়া লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা এবং তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের সামনে হাজির করা উচিত। অথবা তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেয়া উচিত।

সংগঠনটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, এই ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের দায় রয়েছে। তবে তা অবশ্যই দেশের ফৌজদারি দণ্ডবিধি ও আন্তর্জাতিক আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো তদন্ত ছাড়াই হঠাৎ সাঁড়াশি অভিযানের নামে ‘সন্দেহভাজন’ তকমা দিয়ে গণহারে গ্রেফতার করা সরকারের পুরনো স্বভাব।

বাংলাদেশে ব্লগার, মুক্তমনা লেখক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড শুরু হয় ২০১৩ সাল থেকে, এখনও তা চলছে। এ পর্যন্ত এ ধরনের অর্ধশত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই সংঘটিত হয়েছে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস অথবা আল-কায়দার বাংলাদেশী জঙ্গি গ্রুপ আনসার আল-ইসলাম বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে নিজেরা দাবি করলেও এদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরকার দেশটিতে জঙ্গি সংগঠন দুটির অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটার পর তদন্তের নামে কয়েকজন লোককে গ্রেফতার করা ছাড়া কর্যত কিছুই করতে পারেনি।

এইচআরডব্লিউ’র বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে গ্রেফতারের কয়েক সপ্তাহ পর ওই ব্যক্তির পরিবারকে জানানো হয়েছে। আটক করা এসব লোকদের কোথায় রাখা হয়েছে তা জানানো হয়নি। এমনকি তাদের কোনো আইনি সহায়তা নেয়ারও সুযোগ দেয়া হয়নি।

তবে গত ২৫ এপ্রিল মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও সমকামী আন্দোলনের কর্মী জুলহাস মান্নান এবং তার এক বন্ধুকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে সরকার।

এরপর ৫ জুন এক এসপির স্ত্রীকে হত্যার ঘটনার পর সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের নির্মূল করতে নতুন করে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দেয় সরকার।

এরপরই শুরু হয় বিশেষ অভিযানের নামে গণহারে গ্রেফতার। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে হাজারো মানুষকে তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু এরপরও বন্ধ হয়নি এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

এজন্য ব্র্যাড অ্যাডামস গণহারে মানুষ গ্রেফতার বন্ধ করে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন মেনে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।