ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:২৩ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২৪শে মে ২০১৮ ইং

খোকনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন ওরফে খোকনের  বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) রাখার আদেশ দেয়।
গতকালএ ট্রাইব্যুনাল আজকে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। এটি হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বাদশ রায়।
এ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল। খোকন রাজাকারের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুশ শুকুর খান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সমাপনী বক্তব্যে প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল দাবি করেন, জাহিদ হোসেনের ওরফে খোকন  বিরুদ্ধে আনীত গঠিত সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। এজন্য তিনি এ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আর্জি পেশ করেন।
গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে গত ২ এপ্রিল পর্যন্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সত্যরঞ্জন দাশসহ খোকনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৪ জন সাক্ষী। গত বছরের ৯ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে খোকন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। খোকন এর বিরুদ্ধে ১৬ জন নারী ও শিশুসহ ৫০ জনকে হত্যা, তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা, ২ জনকে ধর্ষণ, ৯ জনকে ধর্মান্তরিত করা, ২টি মন্দিরসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, সাতজন গ্রামবাসীকে সপরিবারে দেশান্তরে বাধ্য করা ও ২৫ জনকে নির্যাতনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ আনা হয়।
গত বছরের ৩০ জুলাই খোকনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে দু’টি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে জাতীয় দুটি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়। তারপরও সে হাজির না হওয়ায় ১৪ আগস্ট খোকন এর অনুপস্থিতিতেই তার বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়।
এছাড়া আরো ৩টি মামলা ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা ৩ মামলার আসামিরা হচ্ছে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, ব্রাম্মনবাড়ীয়ার মোবারক হোসেন ও জাতীয় পার্টি নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার।

এই প্রতিবেদন Like & Share করুন।