Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:২০ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদার সঙ্গে কর্মচারীদের বৈঠকের খবরে হঠাৎ তোলপাড়ঃ চিহ্নিতঃ ৯

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে এম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে সাবেক এবং বর্তমান সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া – এমন খবরে হঠাৎ তোলপাড় শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।
 
গত রাত সাড়ে ৯টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবার খবর ছড়িয়ে পরলেও বিএনপি অথবা উপস্থিত সচিবদের কেউই এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈঠকের খবরে সেখানে পৌছে যান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকজন।
 
বৈঠকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সালাউদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান প্রমুখ এ সময় গুলশান কার্যালয়ে ছিলেন।
 
এ প্রসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এস এম হালিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো শিডিউল বৈঠক ছিল না। নিয়মিত আমরা যেমন আসি, আজও সেভাবেই দেখা করেছি। এর বাইরে আর কিছু নয়।
 
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোনো বৈঠক ছিল না। সাবেক কর্মকর্তারা তো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই এসেছেন।
 
সরকারি কর্মকর্তারা এমন বৈঠক করতে পারেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাহলে জনতার মঞ্চ হয়েছিল কীভাবে? তখন তো সার্ভিস রুল ভঙ্গ হয়নি!
 
আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এর পরপরই তিনি এবিষয়ে দলের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন। এর পরই রাত পৌনে ১টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয় ত্যাগ করেন।
 
এর আগে, রাত পৌনে ৮টা থেকে কয়েক দফায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় গুলশান কার্যালয়ে গণমাধ্যমের কর্র্মী ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ভিড় জমায়।

প্রতিক্রিয়াঃ

১/ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন । শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সার্ক সম্মেলন ও মালয়েশিয়া সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন লঙ্ঘন করে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেছেন তাদের চাকরি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
২/ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কচুরপাতার পানির মতো টলমল নয়। দেশের পঁচাত্তর ভাগ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি সমর্থন ও আস্থা রয়েছে।বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কিছু সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাক্ষাত করা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কিন্তু সরকারি চাকরি করা অবস্থায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই। যদি তারা দেখা করে তবে তারা সরকারি চাকরির বিধান লঙ্ঘন করেছে, যারা বিধান লঙ্ঘন করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা অবশ্যই সরকার নেবে।
 
৩/ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, নিজ দলের নেতাদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে এখন আমলাদের নিয়ে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে খালেদা জিয়া সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন।  গুলশান ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িতদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, সরকারি আমালাদেরকে ষড়যন্ত্রে উৎসাহিত করার জন্য খালেদা জিয়াও তাদের মতো সমান অপরাধী। তাই খালেদা জিয়াকে প্রধান আসামি করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
 
৪/ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার উত্তরা ষড়যন্ত্রের মতো গুলশানের গভীর রাতের ষড়যন্ত্র সফল হবেনা বলে মন্তব্য করেছেন। খালেদা জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে নয় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন তার এই ষড়যন্ত্র কিছুতেই সফল হতে দেয়া হবেনা। তিনি বলেন,কারা কারা এই ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করেছিল তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে বের করবে এবং শাস্তির ব্যবস্থা করবে। তাদের এই রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র কিছুতেই সফল হতে দেয়া হবেনা।
প্রশাসনঃ বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ের বৈঠকে উপস্থিত হওয়া সচিবালয়ের ৯ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।ওই ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন- যুগ্ম সচিব (ওএসডি) এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহাকারী সচিব (ওএসডি) এহসানুল হক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (বর্তমানে প্রেষনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে) বাদিউল কবির, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইব্রাহীম মিয়াজী, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের নুরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আব্দুল মান্নান ও এ কে এম হুমায়ুন কবীর, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী শহীদুল হক ও এজি অফিসের কর্মচারী আব্দুল মান্নান।নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামাল আব্দুল নাসেরের কাছে গোয়েন্দা সংস্থা ওই ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ।