ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:০০ ঢাকা, রবিবার  ১৯শে আগস্ট ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া - ড. হাছান মাহমুদ
খালেদা জিয়া - ড. হাছান মাহমুদ

‘খালেদা-তারেকের বিরুদ্ধে রায় ছিল প্রত্যাশিত’ – ড. হাছান

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালত কর্তৃক দেয়া কারাদন্ড ও জরিমানার রায় ছিল জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রত্যাশিত। এই রায়ের মাধ্যমে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের দৃষ্টিতে যে সবাই সমান ও আইনের ঊর্ধ্বে যে কেউ নন, তা প্রমাণিত হয়েছে।

‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়- আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগ নেতা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির (জেপি) অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমিন রুহুল, মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু, সংগঠনের নেতা মিজানুর রহমান বিটু, ইদ্রিস আহমেদ মল্লিক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ঢাকা বিভাগীয় শাখার সহ-সভাপতি নওশের আলী।

আওয়ামী লীগের অন্যতম এই মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন। এপ্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এই রায়ে জনগণ অত্যন্ত খুশী হয়েছে। আমরা কারও আবেগ নিয়ে উপহাস করতে চাই না (সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদের কান্না)। তাদের নেত্রীর প্রতি তাদের আবেগ থাকতেই পারে। কিন্তু প্রশ্নটা সেখানেই- ২০১৪ সালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে পেট্রোল বোমা মেরে অসংখ্য মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা ও অঙ্গার করার সময় তাদেরকে কান্না করতে দেখা যায়নি। আপনাদের নেত্রীকে যখন আদালতের রায়ে বাড়ি ছাড়তে হয়, তখন কাঁদেন, দুর্নীতির দায়ে সাজা হলে কাঁদেন। কিন্তু যখন জনগণের কষ্টের কারণ হয়ে যান, তখন কাঁদেন না। জনগণের জন্য কাঁদেন না। আপনারা কাঁদেন সম্পত্তি রক্ষা ও দুর্নীতির জন্য সাজা হলে।’

এ সময় হাছান মাহমুদ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ২০১৪ সালে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা ও আহত করার মামলা চলমান রেখে খালেদা জিয়াসহ জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এই মানুষ হত্যার বিচার না হলে তা ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাজনীতির নামে যাতে কেউ মানুষ পুড়িয়ে না মারতে পারে সে জন্যই এই বিচার হওয়া দরকার বলে মত দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানে যে দুর্নীতিবাজ তা আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। যে যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন- আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান- তা এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।’

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য যেভাবে নাশকতা করেছেন তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা গতকালও দেশে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে মামলার রায়কে ভন্ডুল করার জন্য অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের রায় ভন্ডুল করার অপচেষ্টা সফল হয়নি।

ড. হাছান আরও বলেন, বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়া যখন আদালতে যেতেন ও ফিরতেন, তখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণ ও রাস্তায় বিশৃংখলার অপচেষ্টা করেছে। গাড়ী ভাংচুর করে জনগণের শান্তি শৃংখলা বিনষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মামলার রায়ে কারাদন্ড পাওয়া ও লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে- বিএনপি শুধু দুর্নীতিবাজদের দল নয়, দুস্কৃতকারীদেরও দল।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই মামলার রায় খালেদা জিয়ার কর্মের ফল। এখানে সরকারের কোন হাত নেই। মামলাটি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা। এই মামলায় যে সরকারের হাত নেই, তা হলো- ২০১৪ সালে আমরা (আওয়ামী লীগ) দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসবো, তা তো আমরা জানতাম না। মামলা স্বভাবিক প্রক্রিয়ায় চলেছে। যে বিষয় নিয়ে মামলা তাতে অল্প সময়েই বিচার কার্য সম্পন্ন হতে পারতো। সেই মামলা তারা (বিএনপি) ১০ বছর প্রলম্বিত করেছে। বারবার সময় নিয়ে আদালতকে হেনস্থা করেছেন। রায়ের দিন রায় ভন্ডুল করার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অপচেষ্টা চালিয়েছে।’