Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩৬ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রয়োজনে প্রতিপক্ষকে হত্যা করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করতে কুন্ঠাবোধ করেন না।
‘তাকে হত্যার প্রয়োজন হবে না, নিজেই নিঃশেষ হয়ে যাবে’ গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হানিফ এ কথা বলেন।
রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ সন্ধ্যায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাথে আওয়ামী লীগের এক যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান টিটু, মহানগর উত্তরের সভাপতি মোবাশ্বের চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান খান ইরান উপস্থিত ছিলেন।
মহান বিজয় দিবস, ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস এবং ১০ জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে এ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযেদ্ধাদের দল নয়’ খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যেও জবাবে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘তিনি গত ১৩ ডিসেম্বর অসত্য বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলেছেন।’
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ তো এক দিনে সংঘটিত হয় নাই। আন্দোলন ধাপে ধাপে সংঘটিত করে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে’ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন,‘ জিয়াউর রহমান যে কেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তা জাতির কাছে পরিস্কার নয়।তিনি তো পাকিস্তানি অস্ত্র বোজাই জাহাজ সোয়াতের অস্ত্র খালাসের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। আর কোন রণাঙ্গনে তিনি যুদ্ধ করেছেন সেটাও দেশের মানুষের কাছে পরিস্কার নয়।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তিনি রাজাকারদের দেশের রাজনীতিতে পুনবার্সন করেছিলেন।
‘জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রাজাকারদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত করার বিষয় উল্লেখ করে তিনি হানিফ বলেন,‘ দেশে কি ওই সময় রাজাকার ছাড়া কোন মানুষ ছিল না। কেন ওই রাজাকারদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে হবে।’
তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তারই ধারাবাহিকতায় একই কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজাকার-আলবদর নিয়ে গড়ে ওঠা দল বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের নেত্রী হিসেবে দাবী করেন । তার এই বক্তব্যে গোটা জাতি অবাক না হয়ে পারেন না, ক্ষোভ প্রকাশ না করে পারেন না।
হানিফ বলেন,তার (খালেদা জিয়া) বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালে সারাদেশে আওয়ামী লীগের যত নেতাকর্মী খুন এবং একুশে আগস্ট যে গ্রেনেড হামলা হয়েছে তার নির্দেশেই হয়েছে ।
তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্যের সূত্র ধরে তার যোগসূত্র থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, ৫জানুয়ারি নির্বাচন না করে তিনি (খালেদা জিয়া) চরম ভুল করেছেন। এতে তার দল চরম সংকুচিত হয়ে সংকটে পেেড়ছে। তা কাটিয়ে ওঠার জন্য তিনি দিশাহীন পাগলের মতো প্রলাপ বকছেন।
হানিফ আরো বলেন, দেশের ৭৫ভাগ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থাশীল। যতদিন বাংলার জনগণ শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চাইবে ততদিন তিনি ক্ষমতায় থাকবেন। কোন হুমকি-ধামকি দিয়ে লাভ হবে না।
এর আগে আওয়ামী লীগের সাথে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার।