Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:৫৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া মানুষ হত্যার দায় এড়াতে পারেন না: প্রধানমন্ত্রী

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনায় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, এভাবে মানুষ হত্যার দায় তিনি এড়াতে পারেন না। এসব হত্যাকান্ডে মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। আইন তার আপন গতিতে চলবে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য শামিম ওসমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রী অফিসে বসে একের পর এক সাধারণ মানুষকে পেট্রোল বোমা মেরে হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। মানুষ হত্যা বাংলার মানুষ কখনই বরদাস্ত করবে না। মানুষ হত্যার ব্যাপারে মামলা হয়েছে। এতো মানুষের হাহাকার, এতো মানুষের কষ্ট, যন্ত্রণা এটা বিনা বিচারে যেতে পারে না।’
তিনি বলেন, মিশরের ২৫ জন নাগরিককে আইএস জঙ্গিরা যেভাবে পুড়িয়ে মেরেছে, বেগম খালেদা জিয়া ঠিক সেভাবেই জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারছেন। আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ ও খালেদা জিয়ার সন্ত্রাসের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সাথে হাত মিলিয়ে তিনি এদেশের মানুষকে পুড়িয়ে মারছেন। এসব দুষ্কর্মের সাথে তার কিছু ক্যাডার বাহিনী আর জামায়াত-শিবির জড়িত। এর বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে হবে। আর যদি এ বিচার না হয়, তাহলে দেশ ধ্বংসের দিকে চলে যাবে এবং তিনি প্রতিনিয়ত দেশের ধ্বংস করে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কি দোষ, সাধারণ মানুষের উপর এই জুলুম উনি কেন করছেন? ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে, তাদের পরীক্ষা বন্ধ করে উনার অর্জনটা কি হচ্ছে? ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে উনি খুন-খারাবি চালিয়েই যাচ্ছেন। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কেউ তার নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আর এখন উনি না বিরোধীদলে, না ক্ষমতায়, নিজের ভুলের জন্য নির্বাচনে আসেননি। জামায়াত নির্বাচনে আসেনি, তাই তিনিও নির্বাচনে আসেননি। উনার ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে জাতিকে। উনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছেন। আর জনগণকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে। দিনের পর দিন তিনি একের পর এক মানুষ হত্যা করছেন। অবস্থা এমন দাঁড়াচ্ছে যে, ভবিষ্যতে বিএনপি’র নাম শুনলেই মানুষ মুখে থুথু দিবেন।
তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যত ক্ষোভ যেন সাধারণ মানুষের ওপর। আর এ ক্ষোভ থেকেই একের পর এক মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহতের নামে সে সময়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। একটি বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে দেশকে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, মানুষ যখন সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে দেশের বিরুদ্ধে মানুষের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছেন। তিনি একের পর এক হরতাল দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের মানুষ হরতাল মানে না। কিন্তু আতঙ্কিত, কারণ উনি পেট্রোল বোমা মেরে মানুষকে পুড়িয়ে মারছেন। উনি উনার মানুষ পুড়িয়ে মারার মোহে এতটাই মোহিত হয়ে আছেন যে, নিজের ছেলের জন্য শোক উনার আছে কিনা, জানি না। কারণ তিনি একবারের জন্যও ছেলের কবর পর্যন্ত জিয়ারত বা দোয়া করতে যাননি। আত্মীয়-স্বজন মারা গেলে আমরা দেখেছি মানুষ কুলখানী করেন, দোয়া-কালাম পড়েন, কিন্তু এসব বিষয়ে তার কোন আগ্রহ নেই। তিনি মানুষ হত্যায় এতটাই বিভোর।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যার পর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় জিয়াউর রহমান সংবিধান লংঘণ করে অবৈধভাবে মার্শাল ’ল দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল। হাইকোর্টের রায়ে তার এই ক্ষমতা দখল অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে গড়া সংগঠন হচ্ছে বিএনপি। যদি ওই রায়ের কার্যকারিতা আমরা মনে করি, তাহলে বিএনপি নামের একটি দলেরও অস্তিত্বও থাকে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল হিসেবে বিএনপি রয়েছে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার পর জাতির পিতার খুনীদেরকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী ও স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর সেনাবাহিনীতে ১৯টি ক্যু হয়েছিল। তাতে সেনাবাহিনীর হাজার হাজার অফিসারকে জিয়াউর রহমান কোর্ট মার্শাল করে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছিল। জিয়ার স্ত্রীও ’৯১ সালে ক্ষমতায় এসে একই কাজ করেন। সবচেয়ে প্রথম আঘাত আসে জাতীয় পার্টির উপর। বর্তমান বিরোধী দলের নেতাকেও গ্রেফতার করে ডিভিশন না দিয়ে কারাগারে ফেলে রেখেছিল এবং তারা ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের উপর নির্যাতন চালায়। ওই সময়ে ৬ বছরের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত তাদের গ্যাং রেপ থেকে রেহায় পায়নি। সারাদেশের ৫শ’ জায়গায় এক সাথে বোমা বিস্ফোরণ, বাংলা ভাই সৃষ্টি করে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়েছে। অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা ও ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা করে নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আদালতে বোমা মেরে বিচারক ও আইনজীবী পর্যন্ত হত্যা করা হয়েছে।
সরকারি দলের সদস্য গোলাম দস্তগীরের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সন্ত্রাস দমন আইন, দ্রুত বিচার আইনসহ প্রচলিত অন্যান্য আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। যারা এ ধরনের ঘটনায় লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। অনেকে ধরা পড়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এবং কারা এর সাথে জড়িত তাও জানা যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে মামলাও করা হচ্ছে।
তিনি কোন কোন এলাকার কারা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তার তথ্য দেয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিচার দেশের প্রচলিত আইনেই করা সম্ভব। যারা পেট্রোল বোমা মেরে মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেয়া হবে। যারা এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই।