শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:২৫ ঢাকা, শনিবার  ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ফাইল ফটো

খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবে না : এটর্নি জেনারেল

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী এডভোকেট খুরশিদ আলম খানও বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালত থেকে সম্পূর্ণ খালাস বা দন্ড স্থগিত না হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

এর আগে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে বিচারিক আদালতে কোনো ব্যক্তির দু’বছর বা তার বেশি মেয়াদে সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) হলে ওই দন্ডের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মত দেয় হাইকোর্ট।

দুর্নীতির দায়ে বিচারিক আদালতের দেয়া দন্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে পাঁচ বিএনপি নেতার আবেদন খারিজ করে আদেশ দেয়ার সময় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এ মত দেয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্টের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এটর্নি জেনারেল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

মাহবুবে আলম বলেন, অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মশিউর রহমান, এমডি আব্দুল ওয়াহ্হাব, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দন্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালতে আমি বলেছিলাম-ফৌজদারি আদালত বিশেষ করে ফৌজদারি আপিল আদালত অবশ্যই তাদের সাজা (সেনটেন্স) স্থগিত করতে পারে। কিন্তু কনভিকশন বা তাকে যে দোষী সাব্যস্থ করা হয়েছে সেটির স্থগিত নেই।

তিনি বলেন, বিশেষ করে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(ঘ) উল্লেখ করে বলেছিলাম, সেই সমস্ত ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না বা সংসদ সদস্য হতে পারবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলন জনিত কারণে অন্যূন্য ২ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন এবং মুক্তি লাভের পর ৫ বছর সময় অতিবাহিত না হয়।

যারা দরখাস্ত করেছিলেন তারা সবাই দন্ডপ্রাপ্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরা তাদের দন্ড থেকে মুক্তি লাভ করেনি। এবং তাদের ৫ বছর সময় অতিবাহিত হয়নি। এমতাবস্থায় যদি তাদের দন্ড স্থগিত করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয় তা হবে আমাদের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। কাজেই আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার কোন অবকাশ থাকবে না বলে আমি মনে করি, বলেন এটর্নি জেনারেল।

একই ভাবে হাইকোর্টের এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আজ দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, বিচারিক আদালতে কারও বিরুদ্ধে দুই বছরের বেশি সাজা বা দন্ড হলে সেই দন্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। যতক্ষণ না, আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল, খালাস বা দন্ড স্থগিত করে জামিন না দেয়।

দুদকের এই আইনজীবী বলেন, আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পাঁচটি দরখাস্তের শুনানি হয়েছে। ওইসব দরখাস্তের মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল সেনটেন্সড সাসপেন্ড করার। এই ব্যাপারে গত দুদিন শুনানি হয়েছে। আজকে আদালত আদেশ দিয়ে আবেদনগুলো খারিজ করে।

তিনি বলেন, মূলত একটাই কারণ, সেটা হলো সংবিধানের ৬৬ (২)-এর (ঘ) ধারায় যে বিধান দেয়া আছে আদালত বলেছেন যে, এটা সুপ্রিম ল অব দ্য কান্ট্রি। কাজেই ফৌজদারি কার্যবিধিতে সাজা স্থগিত করার কোন বিধান নাই। স্থগিত করার বিধান থাক বা না থাক, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে প্রাধান্য পাবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় যাই থাকুক না কেন, সংবিধানের সবার ওপরে প্রযোজ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালত বলেছেন, দুর্নীতি এমন একটা ব্যাপার যে, এ বিষয়ে আমাদের সবার সজাগ থাকা উচিৎ। কাজেই কনভিকশন মাথায় নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া সংবিধানের মূল স্পিরিটের পরিপন্থী।

খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে কিনা জানতে চাইলে এটর্নি জেনারেল বলেন, অবশ্যই। এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। এখানে শর্ত হলো ২টি। তা হলো- তিনি যদি দন্ডিত হন তাহলে পারবেন না। ইতিমধ্যে তিনি যদি তার দন্ড বা সাজা থেকে মুক্তি লাভ করেন তাহলে তার সাজা বাতিলের তারিখ থেকে ৫ বছর তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।