Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:৫০ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২২শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য অনুপযুক্ত

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিসমর্থক বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য অনুপযুক্ত।
তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া যতক্ষণ পর্যন্ত জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধী বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য অনুপযুক্ত থাকবেন’।
আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশবাসীকে অবহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ বিপদ হচ্ছে জঙ্গিবাদ। তারা সংবিধান ও গণতন্ত্রকে অস্বীকার করে, তা ধ্বংস করতে সব সময় উদ্যত থাকে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে নিরাপদ করতে জঙ্গিবাদ বর্জন ও ধ্বংস করার বিষয়ে সবার আগে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এ বাস্তবতাকে আড়াল করে যারা গণতন্ত্র ও নির্বাচনের নামে আলোচনার জন্য মায়াকান্না কাঁদছেন, তারা আসলে গণতন্ত্রে নাজায়েজ এবং হারাম জঙ্গিবাদী শক্তিকে জায়েজ ও হালাল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
ইনু বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সাথে আরেকটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের আঁতাত বা আলোচনা স্বাভাবিক এবং গণতন্ত্রের চর্চায় এমনটাই হওয়া উচিত। কিন্তু কোন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বা জোটের সাথে যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদের কখনই আলোচনা বা সমঝোতা হতে পারে না। তবে বিএনপি’র ক্ষেত্রে বারবারই এমনটি ঘটছে, এতেই প্রতিয়মান হয় বিএনপি’র মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা কতটুকু রয়েছে?
তিনি বলেন, বেগম জিয়া জঙ্গিবাদকে হালাল এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে বিপদগ্রস্থ করার ভুল রাজনীতি আবারও দেশ ও জনগণের উপর চাপাতে চায়, এমনকি তাদের বলি বানাতেও তিনি প্রস্তুত। তবে দেশ ও জনগণকে বিএনপি-জামায়াতের বলি হওয়ার ভুল রাজনীতিকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না, বরং জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুধু সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই জয় হয়নি, সেই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের টানা সহিংসতা আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতিরও পরাজয় হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় শান্তি ও উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে পথচলা শুরু করেছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের বছরপূর্তির মাথায় গতকাল ৫ জানুয়ারিকে সামনে রেখে গুজব রটিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা চালায়। শুধু গুজব ছড়িয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি, সেই সঙ্গে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকান্ডেরও প্রস্তুতি গ্রহণ করে। যার প্রেক্ষিতে দু’দিন আগ থেকেই বোমাবাজি, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনপূর্ব ভুল রাজনীতির জন্য ভুল স্বীকার না করে, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারিকে সামনে রেখে আবারও ভুল ও সহিংসতার রাজনীতির পুনরুত্থানের অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ভুল রাজনীতির জন্য বিএনপি জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে বরং তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে আবারও তারা জনগণকে কষ্ট দিচ্ছে এবং দেশ ও জনগণের সম্পদ ও অর্থনীতি ধ্বংস করছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষগুলো বিএনপি-জামায়াতের দেশবিরোধী ও জনগণের স্বার্থ বিরোধী সহিংস রাজনীতিকে সমর্থন করে না। এ কারণে সরকারও তাদের ধ্বংসাত্মক ও অশান্তির রাজনীতিতে জনগণ ও দেশকে বলি হওয়ার সুযোগ দিবে না। বরং জনগণের স্বার্থে বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিহত করা হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার ৭ দফা দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম জিয়া জ্ঞানপাপীদের মতো আবারও ‘নির্দলীয় সরকার’-এর অধীনে নির্বাচন দাবি করেছেন। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিদের সাথে দোস্তির রাজনীতি ত্যাগের কোনো কথা বলেননি। আলোচনার নামে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিদের রাজনীতিতে হালাল করার ফাঁদ পেতেছেন।
মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে আগে স্বাভাবিক ও বৈধ রাজনীতির পথে হাঁটতে হবে। তারপর তার সঙ্গে আলোচনায় বসা যাবে কিনা, ভেবে দেখা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাহজাহানপুরে পাইপের মধ্যে শিশু মৃত্যুর জন্য যদি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়, তাহলে বোমাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের উস্কানিদাতা এবং সিএনজিতে একই পরিবারে তিনজনকে অগ্নিদগ্ধ করার ঘটনায় খালেদা জিয়াও হত্যা মামলার সম্মুখীন হবেন। এ হত্যা মামলার জন্য তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন।