কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদনের ফাইলে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে, প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই মুক্তি পাবেন বিএনপি নেত্রী।

বুধবার বেলা দেড়টার দিকে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা জানান।

খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাঁকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়ার মঙ্গলবার সিদ্ধান্তের কথা জানায় সরকার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বাসায় সংবাদ ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান। এ-সংক্রান্ত সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

আজ সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি তার ছোটভাইয়ের জিম্মায় থাকবেন।

মুক্তির সময়কালে খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সময় তিনি কেন রাজনীতি করবেন?

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশ আইজি প্রিজনের কাছে পৌঁছেছে। সেখান থেকে এটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারের কাছে যাবে। জেল সুপার ওই আদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাবেন। এরপরই মুক্ত হবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তির শর্ত হিসেবে বাসায় অবস্থান করতে হবে খালেদা জিয়াকে। চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই। সাজা মওকুফকালীন ছয় মাস তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সরকারি এ সিদ্ধান্ত জানার পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ও খালেদা জিয়ার পরিবার তার মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

বুধবার সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছিল তিনি মুক্তি পাবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয়ার আদেশের নথি বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আজ দুপুর ১২টার দিকে ওই নথি আমাদের কাছে এসেছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন তৈরি করে কারা কর্তৃপক্ষকে পাঠাবে। এর পরই ওই ফাইল কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।

উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া।

প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খালেদার জামিনের জন্য আইনজীবীরা গত দুই বছরে বহুবার আদালতে গেছেন, কিন্তু জামিন হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে মার্চের শুরুতে খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার খবর আসে।