Press "Enter" to skip to content

“খালেদার মুক্তিসহ চার শর্তে নির্বাচনে যাবে বিএনপি”

কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিকেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের এক নম্বর পূর্বশর্তসহ সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন, সেনা মোতায়েন এর মত প্রধান চারটি শর্ত দিয়েছে বিএনপি।

দলটি দাবি করে বলেছে, নির্বাচন করতে হলে এক নম্বর শর্ত খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব শর্তের কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। দীর্ঘ আড়াই বছর পর রাজধানীতে এই সমাবেশ করে দলটি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ বিকাল ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করা সহ ২৩টি শর্তে তাদের এই সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের আনাগোনা শুরু হয়। তবে পুলিশের শর্তের কারণে নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসতে শুরু করেন দুপুরে জুমার নামাজের পর। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আড়াইটার দিকে প্রখর রোদের মধ্যেই হাজারো নেতাকর্মীদের পদচারণায় ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই ধার কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তাদের হাতে দেখা যায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার।

‘মুক্তি মুক্তি, মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানে সমাবেশস্থল মুখরিত করে তুলেন নেতাকর্মীরা। বিকাল পৌনে ৩টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর বানানো অস্থায়ী মঞ্চ থেকে এই সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।

বিএনপির সমাবেশ
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনও নির্বাচন হবে না। নির্বাচন করতে হলে এক নম্বর শর্ত খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সব দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বর্তমান সরকারের দুঃশাসন যেভাবে বুকে চেপে আছে তার থেকে মুক্তির জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

৮ বাম দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অন্যান্য সব দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে জগদ্দল পাথরের মতো বুকে চেপে বসে থাকা সরকারকে সরাতে আন্দোলনে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বাংলাদেশে কোনও নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার অনির্বাচিত ও অবৈধ। এদের হাত থেকে দেশের মানুষ মুক্তি চায়। এরা দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির মাধ্যমে ভয়ের রাজ্য তৈরি করেছে। দেশের প্রতিটি মানুষ অনিরাপদ। মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়।

কোট সংস্কারের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের তুলে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, এরপর মিথ্যা মামলা দিয়ে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের মায়েরা বলছেন- ‘আমাদের চাকরি লাগবে না। আমাদের ছেলেদের মুক্তি দেন।’ আজকে দেশের কোনো মানুষ নিরাপদ নয়। দেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকেও বলা হচ্ছে অন্যায় করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করুন। আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হোক তা আওয়ামী লীগ চায় না বলে দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব।

তিনি বলেন, কারণ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবং বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ২০ আসনও পাবে না। তাই তারা আবারও ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করতে চায়।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে আজকে সরকার একটি মাত্র উদ্দেশ্য মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি রেখেছে। সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়, রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। তারা খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে ফের নির্বাচনের নামে সাজানো নাটক করতে চায়।

দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ আইনের শাসন পাচ্ছে না। রাজনীতিবিদরা কথা বলতে পারছেন না। এই ধরনের অবস্থা চলতে পারে না। জাতীয় ঐক্যর মাধমে আন্দোলন গড়ে তুলে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। ক্ষমতার জন্য নয়, বিএনপির আন্দোলন করছে দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য।

সমাবেশ বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে শেষ হয়। সমাবেশ চলাকালে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের দুটি সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। এতে করে আশেপাশের এলাকায় গাড়ির জট ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে দুর্ভোগে পড়ে নয়াপল্টন এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ।

Mission News Theme by Compete Themes.