ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:০৫ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদার নিষ্ঠুরতা এবং বর্বরতা নজিরবিহীন

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বেগম খালেদা জিয়াকে আগুন সন্ত্রাসের নেত্রী হিসাবে অভিহিত করে বলেছেন, আগুনে পোড়া মানুষ ডিঙিয়ে সরকার তার সঙ্গে কোনো সংলাপে বসতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া আর সরকারের মাঝখানে আগুনে পোড়া অসংখ্য মানুষ রয়েছে। এই আগুনে পোড়া মানুষদের ডিঙিয়ে সরকার আগুন সন্ত্রাসের নেত্রীর সঙ্গে কোনো সংলাপে বসতে পারে না।’
হাসানুল হক ইনু বলেন, বেগম জিয়া সরকার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন পরিচালনা করতে পারছেন না, তারা জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, জনগণের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে, নিরীহ জনগণকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারছে। এটা নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতা। খালেদা জিয়ার এই নিষ্ঠুরতা এবং বর্বরতা ইতিহাসে নজিরবিহীন।
হাসানুল হক ইনু আজ রাজধানীর উত্তরা হাউজ বিল্ডিং মোড়ে ঢাকা মহানগর জাসদ (উত্তর) আয়োজিত অবরোধ-হরতালের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
অন্যান্যের মধ্যে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর জাসদের সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতার, জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক নঈমুল আহসান জুয়েল, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা মুখলেসুর রহমান মুক্তাদির, নারীনেত্রী রোকেয়া সুলতানা আনজু ও উত্তরার আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল চেয়ারম্যান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সব নিয়মকানুন বাদ দিয়ে সরাসরি সন্ত্রাসের পথ অবলম্বন করছেন। মহাজোটের সরকার জনগণকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সমালোচনা এবং মোকাবেলা করছি। আমরা আইনের মধ্যে থেকে আগুন সন্ত্রাসী, গুপ্ত হত্যাকারী, চোরাগুপ্তা হামলাকারীদের মোকাবেলা করছি।’
দেশের পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ছেলেরা পরীক্ষা দেওয়া শুরু করেছে। যান চলাচল এখন অনেকটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখনো খালেদা জিয়ার আগুন সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে চোরাগুপ্তা হামলার মধ্য দিয়ে জনগণের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর আলবদররা নিরীহ জনগণের উপর যে অনাচার এবং অত্যাচার চালিয়েছিল, বেগম জিয়া সেই রাজাকারদের মতোই এদেশের জনগণের উপর হায়েনার মতো আক্রমণ পরিচালনা করছেন।
খালেদা জিয়া মুসল্লিদের ধর্মকর্মের ধার ধারেন না, স্বরসতী পূজার তোয়াক্কা করেন না, ঈদে মিলাদুন্নবীর তোয়াক্কা করেন না, বাচ্চাদের পরীক্ষার তোয়াক্কা করেন না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘উনি অস্থির, অস্বাভাবিক, অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করছেন। বেগম খালেদা জিয়ার এই অস্থিরতার কারণ এক রহস্যজনক এজেন্ডা। যে গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বেগম জিয়া এই অস্বাভাবিক আগুন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন।’
ইনু বলেন, ‘বর্তমানে খালেদা জিয়ার দোস্ত এবং মিত্র চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা ফাঁসির কাষ্ঠে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এতিমদের টাকা আত্মসাতের দুর্নীতির মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তার পুত্র তারেকের দুর্নীতি এবং হত্যা মামলা জনগণের সামনে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। ২১ আগস্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত রিপোর্ট এখন চূড়ান্ত। সবকিছু খালেদা জিয়ার বিপক্ষে। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন। এখন ক্ষমতার বাইরে এসেও তিনি আগুন সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছেন।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনি এখন নির্বাচন-সংলাপের কথা বলছেন। মহাজোটের সরকার এবং আগুন সন্ত্রাসের নেত্রী খালেদা জিয়ার মাঝখানে আগুনে পোড়া অসংখ্য মানুষ। এই পোড়া মানুষকে ডিঙিয়ে সরকার আগুন সন্ত্রাসের নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় যেতে পারে না। এই আগুনে পোড়া মানুষের আর্তনাদ উপেক্ষা করে মহাজোটসহ কোনো সরকারের পক্ষেই আলোচনা সম্ভব নয়। ডাকাতের সঙ্গে কোনোদিন আলোচনা হয় না, তেমনি আগুন সন্ত্রাসের নেত্রী খালেদার সঙ্গে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, আগুন সন্ত্রাসের কাছে আত্মসমর্পণের অর্থ হলো বাংলার মানুষের আকাক্সক্ষাকে ধ্বংস করে দেওয়া, আগুনে পোড়া মানুষদের আর্তনাদকে অগ্রাহ্য করা। এখন একটাই পথ খোলা আছে, আগুন সন্ত্রাসীদের পরাজিত করা এবং আগুন সন্ত্রাসের নেত্রী খালেদা জিয়াকেও আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। এছাড়া আর কোনো পথ নেই।
তিনি ধৈর্য ধরে আগুন সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেন এবং আগুন সন্ত্রাসীদের পরাজিত করার মধ্য দিয়ে বেগম জিয়াকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে বিচারের মুখোমুখি করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।