ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:২০ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নমুনা ফটো

খালেদার জনসভার তোরণ ভাঙচুর, আগুন, গুলিবর্ষণ, ককটেলের বিস্ফোরণ

রাতে গাজীপুরে খালেদা জিয়ার জনসভার প্রস্তুতি চলার সময় হামলা চালিয়ে তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন ভাঙচুরের পর পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্বে। এ সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটে। মঙ্গলবার রাতে ভাওয়াল কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। তবে ছাত্রলীগ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জেলা বিএনপি অভিযোগ করেছে, হামলার ১৫ মিনিট আগে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে তৈরি করা প্রধান তোরণসহ মাঠে লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন খুলে ফেলতে বাধ্য করে। হামলা ও পুলিশের বাধার প্রতিবাদে জেলা বিএনপি আজ সকালে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।
গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তার ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে আগামী ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
একই দিন ওই কলেজ মাঠেই একই সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছে। এরপর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে গাজীপুর।
এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে এবং তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জনসভা মাঠে ঢুকে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোনো ধরনের অরাজকতা, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার জনসভা বন্ধ করতে পারবে না ছাত্রলীগ।
জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মুনির হোসেন ও ছাত্রদল নেতা নাজমুল খন্দকার সুমন জানান, রাতে জনসভা মাঠে তোরণ নির্মাণ এবং ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর কাজ চলছিল। রাত পৌনে ১০টার দিকে গাজীপুর শহর থেকে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলে করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থল ভাওয়াল কলেজ মাঠে আসে। ফটক দিয়ে মাঠে ঢুকেই তারা ৮-১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় মাঠে থাকা ছাত্রদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা দৌড়ে আত্মরক্ষা করে।
ছাত্রদলের এ নেতারা আরো জানান, এ সময় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা মাঠে লাগানো বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন কুপিয়ে ও ভেঙেচুরে তছনছ করে ফেলে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। মাঠের ভেতরে থাকা বেশ কিছু বাঁশ খুলে ফেলে তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।
ছাত্রদল ও বিএনপির অভিযোগ পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তবে গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দীপ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জয়দেবপুর থানা জানায়, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ছাত্রলীগ রাস্তায় মিছিল করার সময় কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে গুলি করার তথ্য কেউ স্বীকার করেনি। হামলার ঘটনায় পুলিশের সহযোগিতার কথা তিনি অস্বীকার করে।