ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:২৭ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

খালেদার ঘোষিত ভিশন-২০৩০ জাতির সঙ্গে তামাশা ও প্রতারণা : আ.লীগ সম্পাদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ একটি ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফাপাঁনো রঙিন বেলুন। জাতির সঙ্গে এটি তামাশা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আজ বুধবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা’র ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতেই দলের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আজকের এই ভিশন-২০৩০ একটি মেধাহীন, অন্তঃসারশূন্য, দ্বিচারিতাপূর্ণ ও জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রলাপ ছাড়া কিছুই নয়। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি’র ভিশন হচ্ছে হাওয়া ভবন বানিয়ে লুটপাট, দুর্নীতি আর এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার ভিশন।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাস নেতিবাচক রাজনীতির ইতিহাস; হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির স্রষ্টা বিএনপি। তাদের আন্দোলন করার মতো শক্তিমত্তা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের পদতলে দলিত হয়ে গেছে। ভিশন-২০৩০ সাল পর্যন্ত পৌঁছার পথ তাদের জন্য খোলা নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া ‘ভিশন-২০৩০’ বলে যে কর্মপরিকল্পনার কথা বলেছেন এসবের অনেক কিছুই আওয়ামী লীগের আগে দেয়া ‘ভিশন-২০২১’-এ রয়েছে। বিএনপি’র ভিশন যেমনই হোক এতে কোন নতুনত্ব কিছু নেই।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়া বরাবরের ন্যায় এবারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে আছেন এবং পক্ষেই থাকবেন। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই তারা রাজনীতি করবে। তাদের ভিশন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ কায়েম ও দেশ বিক্রির ভিশন।

তিনি বলেন, ইতিহাস বলে এ দেশের জনগণকে স্বপ্ন দেখিয়েছে ভিশনারী আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বপ্ন দেখিয়ে জাতিকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ দিয়েছে। সংবিধান দিয়েছে। পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ জাতির ভাতের এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ। আর অন্যরা সব জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখনো তাই হচ্ছে।

কাদের বলেন, দেশকে মধ্যম আয়ে নেয়ার স্বপ্ন ‘ভিশন-২০২১’ দেখিয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে দেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির এ ধারায় শিগগিরই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হব। এ জাতিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবো ইনশাল্লাহ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের পক্ষে শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির সামনে ‘ভিশন-২০২১’ তথা রূপকল্প-২০২১ উপস্থাপন করেছিলেন। এর আগে কোন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কোন ধরনের রোডম্যাপ উপস্থাপন করেনি। জনগণ ২০০৮ সালে নিরঙ্কুশভাবে শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘ভিশন-২০২১’ তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর ওপর আস্থা স্থাপন করে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গত ৯ বছর ধরে প্রত্যক্ষ করেছে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কি ‘ভিশন’ থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু কাগজে কলমে নয়, স্বপ্নে নয়, বাস্তব অর্থেই তার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন করে চলছেন। যার প্রতিফলন দেশের আজকে সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। এই ভিশন-২০২১ এর কারণেই আজ বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে।

ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রসরমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবো এবং ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবো।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সহযোগি ও বেনিফিশারি হিসেবে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল না করলে গণতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের শাসনকে হত্যা না করলে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্ব দরবারে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো এবং খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগের আইডিয়া চুরি করে জাতিকে ছবক দিতে হতো না।

বেগম খালেদা জিয়ার আজকের বক্তব্য বিএনপির অজ্ঞতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি অনেক বিষয়ে উপস্থাপন করেছেন যেগুলি ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। তাদের কাছে সততার বুলি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা শ্রবণ জাতির জন্য খুবই অপমানজনক। কারণ তাদের নেতা জিয়াই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে বিচারহীনতার নজির স্থাপন করেছিল।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ রক্ত ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হানির বিনিময়ে অর্জিত চেতনা ও মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের চরিত্র পরিবর্তন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আজকে তারা ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমানের সৃষ্ট কারফিউ গণতন্ত্রের ধারক, প্রতিহিংসার নেশায় উন্মত্ত হয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টা, ইনডেমনিটি আইন করে জাতির পিতা হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করা এই বিএনপির মুখে কোন ধরনের ভিশনের কথা বিশ্বাস করার মতো বোকামি বাংলাদেশের জনগণ আর কোন দিন করবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এ কে এম এনামুল হক শামীম ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।