ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:০৩ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

খালাস চেয়ে রিভিউ করবেন আল বদর নিজামী

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী আপিল বিভাগের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।
বুধবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে নিজামীকে মৃত্যু পরোয়ানা ও পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে শুনানো হয়। এ সময় নিজামী কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককে রিভিউ আবেদন করার কথা জানান।
কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, সকাল ৯টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা ও আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি এসে পৌঁছায়। পরে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে কনডেম সেলে গিয়ে তাকে মৃত্যু পরোয়ানা রায় পড়ে শোনানো হয়। এ সময় কারাগারের জেলার নাসিরউদ্দিন  উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মতিউর রহমান নিজামী জেল সুপারকে জানান, তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে আপিল বিভাগে রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ আবেদন করবেন।
রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এখন আসামি পক্ষ রিভিউ পিটিশন দায়েরের জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন। আজ থেকে এই সময় গণনা শুরু হবে। এ সময়ের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দায়ের না করলে নিজামীর দণ্ড কার্যকরে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না। তবে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হলে দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যাবে।
নিজামীর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রায় পর্যালোচনা করে অবশ্যই রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হবে। যেসব অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে আশা করি রিভিউতে সেসব অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পাবেন।
১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতাসহ মানবতাবিরোধী তিনটি অপরাধের দায়ে দোষী জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে নিজামীর করা আপিল আংশিক মঞ্জুর করে গত ৬ জানুয়ারি এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার প্রায় আড়াই মাস পর পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশ পেল।
প্রকাশিত রায়টি ১৫৩ পৃষ্ঠার। রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। রায়ে একমত পোষণ করে তাতে স্বাক্ষর করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। পরে রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়।
যে তিন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল
দুই নম্বর অভিযোগে (একাত্তরের ১০ মে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়ি গ্রামের প্রায় ৪৫০ জনকে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা এবং ধর্ষণ করে প্রায় ৩০-৪০ জন নারীকে), ছয় নম্বর অভিযোগে (একাত্তরের ২৭ নভেম্বর ধুলাউড়া গ্রামে ৩০ জনকে হত্যায় নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততা) এবং ১৬ নম্বর অভিযোগে (১৯৭১ সালে নিজামী আল বদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় আল বদর সদস্যদের সহযোগিতা, অনুমোদন, নৈতিক সমর্থন ও তার কর্মের বিষয়ে নিজামী সম্পূর্ণরূপে সচেতন ছিলেন) নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ।