ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৩৩ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর জীবন ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। এজন্য বর্তমান সরকার সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেশে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা (এফএও) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “বাংলাদেশের খাদ্য পরীক্ষাগার সম্পর্কিত আলোচনা” শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তিহলে আজ দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএবি মহাপরিচালক মোঃ আবু আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে কর্মশালার সুপারিশমালা তুলে ধরেন এফএও’র বিশেষ কারিগরি পরামর্শক অধ্যাপক এলান রেইলি।
এতে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুস্তাক হাসান মোঃ ইফতেখার, এফএও-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রতিনিধি মাইক রবসন বক্তব্য রাখেন। কারিগরি সেশনে বিএসটিআই এবং বিসিএসআইআর এর খাদ্য বিজ্ঞানীরা পৃথকভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ লক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ পাস করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রকার বিধি, প্রবিধান, গাইডলাইন, সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন প্রদানসহ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গড়ে তোলা হয়েছে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আরো দ্রুততার সাথে এ আইন বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খাদ্যমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ানোর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এ লক্ষ্যে দেশিয় ল্যাবরেটরিগুলোর গুণগতমান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্যান্য খাতের মত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে বর্তমান সরকার সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে খাদ্য বিজ্ঞানী ও পরীক্ষকরা দেশে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিকমানের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার তাগিদ দেন।
তারা বলেন, এ প্রতিষ্ঠান থেকে খাদ্য শিল্প উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, গবেষক, টেকনোলজিস্ট ও পরীক্ষকরা নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত যাবতীয় আইন, বিধিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবে। এর ফলে দেশে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণাগার ও মান অবকাঠামো গড়ে ওঠবে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্যের সরবরাহ বাড়াতে ফুড সেফ্টি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত গবেষণাগারগুলোর মধ্যে মান ও অবকাঠামো বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সাথে তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত ল্যাবরেটরিগুলোকে অ্যাক্রেডিটেড করার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের গুণগতমান আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান খাদ্য পরীক্ষাগারগুলোর আধুনিকায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণের জন্য এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে খাদ্য পরীক্ষাগার, গবেষণাগার, মানবিষয়ক নীতি নির্ধারক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদসহ ২শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।