ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:০৪ ঢাকা, বুধবার  ১৫ই আগস্ট ২০১৮ ইং

ক্ষমতা থেকে হঠাতে এবার ঢাকাতেও আন্দোলন করবো-খালেদা

শীর্ষ মিডিয়া ২৩ অক্টোবর ঃ  বৃহস্পতিবার  বিকেলে নীলফামারীতে ২০ দলীয় জোটের আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে আনতে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে হঠাতেই হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- আপনারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন, ডাক দিলেই জেগে উঠবেন। তখন আওয়ামী সরকারকে বিদায় না করে ঘরে ফিরে যাবো না। বিগত দিনে আমি আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলাম আপনারা সাড়া দিয়েছিলেন। আপনারা দেখিয়ে দিয়েছেন কী করে আন্দোলন করতে হয়। শুধু ঢাকাতে আন্দোলন গড়ে উঠেনি। এবার ঢাকাতেও আন্দোলন করবো।

তিনি বলেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল যেমন বাঁকা করতে হয়, তেমনি ভালো ভালো কথায় কাজ না হলে আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হবে। যারা স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেন তাদের কখনো পরাজয় হয় না। আন্দোলনের মাধ্যমে জুলুমবাজ- দুর্নীতিবাজ, খুনীদের হাত থেকে জনগণ ও দেশকে রক্ষা করবো। এদের হাতে বাংলাদেশের মানুষের রক্ত। তাই হাসিনা সরকারকে বিদায় করে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।

২০ দলীয় নেত্রী বলেন, বর্তমানে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে তারা অবৈধ ও অনির্বাচিত এবং জনগণের প্রতিনিধি নয়। কেননা নির্বাচিত সরকার ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার কারো থাকে না। তাই অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন দিতে হবে। হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো দিনেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি আর হবেও না।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বেগম জিয়া বলেন, এই কমিশন অথর্ব। এদের দিয়ে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এই নির্বাচন কমিশনকে বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। যারা দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বেগম জিয়া বলেন- হাসিনা হচ্ছে জনগণের কাছে স্বঘোষিত বেঈমান। হাসিনা মিথ্যাবাদী, কথা দিয়ে কথাও রাখেন না। যা অতীতের মতো এখনো প্রমাণ দেখা যাচ্ছে। হাসিনা একটা জিনিস ভালো জানেন, আর তা হচ্ছে মিথ্যা মিথ্যা মিথ্যা। অবৈধ একদলীয় সরকার প্রতিনিয়ত দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। মনে রাখবেন মিথ্যার ওপর ভর করে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে মেনে নেবো। কিন্তু ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসে থাকতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, অনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মিলে একটি সরকার গঠন করেছে। এই সরকার নির্বাচিত নয়। এই সরকার জনপ্রতিনিধিত্বশীল নয়। এই সরকার বৈধ নয়। এই সরকার গণতান্ত্রিক নয়। এই সরকারের ওপর জনগণের কোনো আস্থা, সমর্থন ও সম্মতি নেই। তাই জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়-দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাও নেই।

তিনি আরও বলেন, শেয়ার বাজার লুট করে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে পথে বসানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো ক্ষমতাসীনদের মদদপুষ্টরা লুটপাট করে খাচ্ছে। অর্থনৈতিক অঙ্গনে একের পর এক বিরাট বিরাট দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির ঘটনা সংবাদ-মাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে। আর্থিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি চলছে।  দেশের সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। নীতিমালার নামে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। একের পর এক বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে সংবাদ-মাধ্যম। সাংবাদিকরা নিহত, নির্যাতিত ও কারারুদ্ধ হচ্ছেন।  দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। অন্যায় কাজে সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তারা হত্যা, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মানুষের ওপর অত্যাচারসহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার আজ চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। দলীয়করণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনপ্রশাসন।  বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নগ্ন দলীয়করণ ও অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপে ভূলুণ্ঠিত। মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। এখন আবার সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা অবৈধ ও অনির্বাচিত সংসদের হাতে নেয়ার জন্য সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। এই অস্বাভাবিক অবস্থা চলতে পারে না।  এসব কারণেই আমরা মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছি। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি। এ সংগ্রাম সকলের। এ সংগ্রামে সকলকে শামিল হতে হবে।