ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৪৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৮ই জানুয়ারি ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

‘ক্ষমতা কিভাবে চলে যাবে বলা যায় না’ বক্তব্যে ঝিনাইদহ আ. লীগে প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা নুরে আলম সিদ্দিকীকে খুনি ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ। তার বক্তব্যে গতকাল শনিবার একটি জাতীয় দৈনিকে “ক্ষমতা কিভাবে চলে যাবে বলা যায় না” শিরোনামে প্রকাশিত হয়। যা বৃহস্পতিবার চ্যানেল আইয়ের টকশোয় অংশ নিয়ে তিনি বলেছিলেন।  মিঃ সিদ্দিকীর বক্তব্য প্রকাশিত হবার পর এমন আখ্যা দিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জে, এম রশীদুল আলম রশীদ প্রতিবাদ জানিয়ে আজ গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে রশীদুল আলম রশীদ উল্লেখ করেন- নুরে আলম সিদ্দিকীর বক্তব্যে আমরা মেটোও হতবাক বা অবাক হইনি। উনি সব সময় ষড়যন্ত্র করেন। ১৯৭৫ সালে এই নুরে আলম জিয়াউর রহমার, মোস্তাক, মিজান চৌধুরী, শাহ মোয়াজ্জেম ও তাহের উদ্দীন ঠাকুরের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলেন। আজকে হয়তো আবার বাবা-ছেলে মিলে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও নিজামীদের সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন। বিবৃতিতে রশীদ উল্লেখ করেছেন, উনি (নুরে আলম) হয়তো ভুলে গেছেন ১৯৭৫ সাল ৪১ বছর আগে পার হয়ে গেছে। কোন ষড়যন্ত্র করে আর নুরে আলমদের লাভ হবে না। টক শোতে নুরে আলম নৈতিকতার কথা বলেন। নুরে আলম সিদ্দিকীর প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জে এম রশীদ বলেন ১৯৭৩ সালের ৯ মার্চ তারিখে কোন নৈতিকতা বলে উনি (নুরে আলম সিদ্দিকী) ঝিনাইদহ শহরের সুইট হোটেল মোড়ে রশীদ ও রবিকে হত্যা করেছিলেন? কোন নৈতিকতার বলে নিজস্ব বাহিনী তৈরি করে ঝিনাইদহবাসীর ওপর নির্যাতন করেছিলেন? এখানকার নির্যাতিত মানুষ ক্ষুদ্ধ ছিলেন বলে ঝিনাইদহে আসতে উনার দুই যুগ সময় লেগেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে- যার কোন নৈতিককতা নেই, তার মুখে নৈতিকতার কথা কেবল ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ ছাড়া কিছু নয়। রশীদ অভিযোগ করেন ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগকে দুই ভাগ করে নির্বাচন করেছিলেন। এখন দিন পাল্টিয়েছে। কোন ষড়যন্ত্র করে রেহাই পাবেন না।

তিনি উল্লেখ করেন সরকার যদি খারাপ হয়, তবে তার ছেলেকে পদত্যাগ করতে বলুন। তিনি নুরে আলমের প্রতি সাধু সাধু না সেজে সাধু হওয়ার পরামর্শ দেন। এদিকে ঝিনাইদহ ১৪ দলের শরীক জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমার খুররম বলেন, এ ধরণের বক্তব্য ষড়যন্ত্রের আলামত। তিনি বলেন- নুরে আলম কোন নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ নন। তার এসব কথা সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ।

নুরে আলম সিদ্দিকী যা বলেছিলেন

শনিবার একটি জাতীয় দৈনিকে “ক্ষমতা কিভাবে চলে যাবে বলা যায় না” শিরোনামে নুরে আলম সিদ্দিকীর বক্তব্য প্রকাশিত হয়। যা বৃহস্পতিবার চ্যানেল আইয়ের টকশোয় অংশ নিয়ে তিনি বলেছিলেন।

নুরে আলম সিদ্দিকীর বরাত দিয়ে ওই পত্রিকায় বলা হয়েছে- “সরকারের শত্রু বিএনপি নয়। খালেদা জিয়াও শেখ হাসিনার শত্রু নন। বর্তমান সরকারের বড় শত্র মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়”। “সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন ও বিচার বিভাগে যে ভাবে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে ভবিষ্যতে এর চরম মূল্য দিতে হবে। নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “ক্ষমতা কখন কিভাবে চলে যাবে বলা যায় না। বিএনপির দুর্দশা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করুন”।

রাজনীতি, ক্ষমতার নামে বর্তমান সরকার যা করছে ভবিষ্যতে তাদের অবস্থা এর চেয়ে বেশি করুণ হতে পারে। নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বাঁশে ঘুণ ধরলে ওপর থেকে বোঝা যায় না। ভেতর থেকে সব নষ্ট হয়ে যায়। একটু চাপ পড়লেই ধসে পড়ে। বর্তমান সরকারের এমন অবস্থা। চারদিকে সুযোগসন্ধানী। তারাই সরকারকে ডোবাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক অখ্যাত প্রতিষ্ঠান আইআরআই সার্ভে করে বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আমেরিকায় আইআরআইর মতো ৫ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের জরিপ নিয়ে জাতীয় সংসদে সিনিয়র নেতা, মন্ত্রীরা যেভাবে উল্লসিত হয়ে তোষামোদ করেছেন তাতে মনে হয়েছে আমাদের জাতীয় সংসদ স্তবক, অর্চনা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব বিভাগের এমন অবস্থা। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান ভালো নেই। সরকারি ব্যাংকগুলো ঘুণে ধরা। এখন ব্যাংকগুলো ১০ টাকার শেয়ার ছাড়লে ৪ টাকায় বিক্রি করা যাবে না। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বলে পরিচিত আমাদের বিচার বিভাগও এর বাইরে নয়। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আরেক বিচারপতি যে চিঠি লিখেছেন সেটা বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করেছে। মানুষ কোথায় যাবে? কী শিখবে? রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তো আছেনই, নেতারাও সব সময় নানা ধরনের অপরাধ করে বেড়াচ্ছেন।

সাবেক এই এমপি বলেন, বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেফাঁস উক্তি করতে অনেক পারদর্শী। তিনি একদিন এক কথা বলেন। এই বেফাঁস, অযৌক্তিক কর্মকান্ড সরকারকে যে কোনো সময় নাড়িয়ে দিতে পারে।