ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:১৯ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ক্ষমতায় থাকতেই ‘প্রবৃদ্ধির চমক’ দেখিয়েছে : বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ‘প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে’ বলেছেন, সরকারের দেখানো প্রবৃদ্ধি ৭.০৫ শতাংশ সম্ভব নয়। এটা অলিক ও বিভ্রান্তিকর। জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় টিকে থাকতেই এটা সরকারের চমক। তিনি জনগণকে এ বিভ্রান্তিকর রিপোর্টে বিভ্রান্ত  না হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় আয় ও প্রবৃদ্ধির ওপর ২০১৫-১৬অর্থ বছরের যে সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে তার প্রেক্ষিতে দলটির পক্ষে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ৭.০৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। এটা অলিক। পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্ট বিভ্রান্তিকর। জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় টিকে থাকাই সরকারের উদ্দেশ্য। সরকার এ পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান পরিসংখ্যানের চমকে বিভ্রান্ত হবেন না। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে এবারই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ৭শতাংশের ঘরে যাবে। এ দাবি সঠিক নয়। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ৭.০৬শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরো অকেটা তাড়াহুড়ো করে এই হিসেবটি প্রকাশ করেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে বাংলাদেশের বিশাল অংকের পুঁজি পাচার হচ্ছে। পুঁজি পাচার জাতীয় অর্থনীতিকে রক্তশূণ্য করে ফেলছে। সরকার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ ঘাটতি পুরণের কৌশল নিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী মাথা পিছু আয় গত অর্থবছরের ১৩১৬ ডলার থেকে চলতি অর্থ বছরের ১৪৬৬ মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথা পিছু আয় ব্যাপক জনগোষ্ঠির প্রকৃত কল্যাণের সূচক নয়। এর জন্য জানা প্রয়োজন আয় বৈষম্যের সূচক। বাংলাদেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতীয় আয় নির্ধারণে ভিত্তি বছর পরিবর্তন করার ফলে বর্তমান দলীয় সরকারের আমলে ২০০৯ সালে মাথা পিচু আয় ১২১ডলার বৃদ্ধি পেয়েছিলো, যা নেহায়েতই পরিসংখ্যানগত চমক। বাস্তবে সাধারণ মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। একারণেই পরিসংখ্যানের চমকে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। এ কারণে ব্যাংকে অলস টাকা পড়ে আছে। সর্বক্ষেত্রে সন্ত্রাসী, চাদাঁবজি ও সরকারের অব্যবস্থাপনায় দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। দেশে বিনিয়োগ না থাকায় দেশের টাকা বাহিরে চলে যাচ্ছে। সরকার যে ৭.০৫ প্রবৃদ্ধি দাবি করছে তা সঠিক নয়। এটা উদ্দেশ্যমূলক। সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোকে চাপ দিয়ে এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করেছে । পণ্য ও সেবার মান বাড়লে প্রবৃদ্ধি বাড়বে কিন্তু বাস্তবে পণ্য ও সেবার মান বাড়েনি। তাই প্রবৃদ্ধি বাড়ার দাবি সঠিক নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক, চৌধুরী আমির খসরু মাহমুদ , সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।