ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:২৭ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৯শে জুন ২০১৮ ইং

শেখ ফজলুল করিম সেলিম
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ফাইল ফটো

“ক্ষমতায় আসার পথ চিরতরে বন্ধ করতে হবে”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ক্ষমতায় আসার পথ চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম আজ দুপুরে ঢাকা-১০ আসনের উদ্যোগে রাজধানীর কলাবাগান মাঠে আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি’র ৭৮ তম জম্মদিন উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজিত জম্মোৎসবে এ কথা বলেন।

শেখ ফজলুল হক মণি’র পুত্র ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে জম্মোৎসবে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, বিশিষ্ট কলামিস্ট কামাল লোহানী, মীর শওকত আলী বাদশা এমপি, আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাপদক মো. হারুনুর রশিদ প্রমূখ।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বিপ্লবের পর প্রতিবিপ্লব হয়। প্রতিবিপ্লবীরা সংগঠিত হয়ে আঘাত হানে। তিনি বলেন, প্রতিবিপ্লবীরা এখন আর এ নামে নেই। আর স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজনীতি করতে পারে না। কিন্তু এ দেশে তারা সাড়ে তিন বছরে তারা ক্ষমতায় এসেছে।

সেলিম বলেন, প্রতিবিপ্লবীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার আগে শেখ ফজলুল হক মণিকে হত্যা করেছে। কারণ তারা জানত, বঙ্গবন্ধু মারা গেলেও শেখ মণি বেচে থাকলে তাঁদের লক্ষ্য পূরণ হবে না। কারণ শেখ মণি দলকে সংগঠিত করে পাল্টা আঘাত করবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ ফজলুল হক মণিকে খুবই বিশ্বাস করতেন। অনেকে ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে শেখ মণি দলের নেতৃত্ব দেবেন। তাই আওয়ামী লীগের ভিতরের এবং বাইরের শত্রুরা মিলে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়েছিল। যা পরে মিথ্যা বলে প্রমান হয়েছিল।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, শেখ ফজলুল হক মণি একজন দক্ষ সংগঠক ও সাহসী মানুষ ছিলেন। তিনি লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে লক্ষ্যে অবিচল থাকতেন। তিনি অপ্রিয় সত্য কথা বলতেন এবং সত্যের প্রতি ছিলেন আপোষ হীন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর শেখ মণি প্রতিরোধ গড়তে পারেন। আর এজন্যই বঙ্গবন্ধুর আগে শেখ মণিকে হত্যা করা হয়েছে।

কামাল লোহানী বলেন, শেখ ফজলুল হক মণি স্বাধীনতা যুদ্ধে যেমন অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন তেমনি স্বাধীনতার পরও যুব সমাজকে দেশের সম্পদে পরিনিত করার জন্য অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি বলেন, শেখ মণি বাংলাদেশ টাইমস এবং বাংলার বানী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি নিজে সম্পাদকীয় লিখতেন এবং প্রথম সংস্করণ দেখে তিনি অফিস থেকে বের হতেন।

তিনি আরো বলেন, শেখ মণি রাজনীতিতে যেমন অসামান্য অবদান রেখেছেন তেমনি দেশের সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রেও অনন্য সাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন।

শেখ ফজলুল হক মণি’র জম্মোৎসব উপলক্ষে কলাবাগান মাঠ শেখ মণির রাজনৈতিক সহচরদের মিলন মেলায় পরিনত হয়। তারা শেখ মণির রাজনৈতিক জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

সকাল সাড়ে দশটায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হয়। তারপর জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও গণসঙ্গীতের ফাঁকে ফাঁকে শেখ ফজলুল হক মণির রাজনৈতিক সহকর্মীরা স্মৃতিচারণ করে বক্তৃতা করেন।

এর আগে সকালে শেখ ফজলুল হক মণির জম্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী যুবলীগ।

পরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে শেখ ফজলুল হক মণিসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।