ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:৪২ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের উপস্থিতিতে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়।

ক্রেন ক্রয়ে চীনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ থেকে কন্টেইনার দ্রুত উঠানো-নামানোর জন্য ৩৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে চীন থেকে ছয়টি রেল মাউন্টেড কী গেন্ট্রি ক্রেন ক্রয় করবে। নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ এ সংক্রান্ত এক চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল এবং চায়না কোম্পানি সাংহাই জেনহুয়া হেভি ইন্ডাষ্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড-এর এক্সিকিউটিভ জেনারেল ম্যানেজার চ্যান কাই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গেন্ট্রি ক্রেনগুলো চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের দেড় বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে। প্রতিটি ক্রেনের ধারণ ক্ষমতা ৪০ টন। একটি ক্রেনের ঘন্টায় ২৫ থেকে ৩২ টুয়েন্টি ইক্যুইভেলেন্ট ইউনিটস (টিইইউস) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করার ক্ষমতা রয়েছে। নতুন এই ছয়টি কী গেন্ট্রি ক্রেন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) সংস্থাপন করা হবে। এতে করে এক সঙ্গে তিনটি গিয়ারলেস জাহাজ হতে এনসিটিতে কন্টেইনার উঠানো-নামানো করা যাবে। এতে জাহাজের প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি পাবে এবং জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমে আসবে। ফলশ্রুতিতে এনসিটি তথা চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান অনুষ্ঠানে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে হ্যান্ডলিং করা হয়ে থাকে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে এই বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন, অপারেশন, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা অর্থাৎ এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শাজাহান খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে চবক-এর কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং এর জন্য ১৩৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৭১টি ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে মোট ২৫১টি ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে এনসিটির জন্য ১৮ টি, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের জন্য ২৯টি এবং জেনারেল কার্গো বার্থ ও অন্যান্য ইয়ার্ডের জন্য ২২৯টি।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল, ২০২০ সালের মধ্যে লালদিয়া টার্মিনাল এবং ২০২১ সালের মধ্যে ‘বে টার্মিনাল’ এর প্রথম ধাপ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা আছে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের চারটি ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আর কোন বন্দরে এ ধরনের ইকুইপমেন্ট নেই। -বাসস