ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:১৫ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

স্বর্ণে ক্যারেটের গোলকধাঁধা

প্রবাদ আছে, মায়ের স্বর্ণের গহনাতেও চুরি করে স্বর্ণকার। কথাটি শুনতে খারাপ লাগলেও বাস্তবে তা সত্য বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।  আঠার, একুশ বা বাইশ ক্যারেট। কথাটি অনেকেই জানেন। সোনার গহনার মানের ক্ষেত্রে এ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর প্রকৃত রহস্য জানেন না সাধারণ মানুষ। এই ক্যারেটের হিসাব কষে ক্রেতাদের কাছ থেকে যুগ যুগ ধরে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন স্বর্ণকারেরা। ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হলেও রাতারাতি সম্পদশালী বনে যাচ্ছেন তারা।বিশ্ব বাজারে নির্ভেজাল হিসেবে যে স্বর্ণ পাওয়া যায় তার মান চব্বিশ ক্যারেট। যেগুলো সাধারণত বিস্কুট বা কয়েন আকারে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বিমান বন্দরগুলোতে প্রায়ই আটক হচ্ছে চোরাচালান হয়ে আসা কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ। সেগুলোই হচ্ছে চব্বিশ ক্যারেট মানের। যার মধ্যে কোন ভেঁজাল বা খাদ থাকে না। তবে এ খাঁটি স্বর্ণ দিয়ে সাধারণত কোন গহনা তৈরি হয় না। এর সাথে খাদ হিসেবে তামা মিশিয়ে গহনা তৈরি করা হয়। এই খাদ মেশানোর পরিমাণের উপর নির্ভর করে স্বর্ণের মান।মেহেরপুরের একাধিক স্বর্ণকারের সাথে কথা বলে স্বর্ণের সাথে খাদ মেশানোর নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এক একজন এক এক ধরণের তথ্য দিয়েছেন। তাদের তথ্য মতে আঠার ক্যারেটের এক ভরি অর্থাৎ ষোল আনা স্বর্ণের সাথে খাদ মেশানো হয় চার থেকে পাঁচ আনা। আর ক্রেতা যদি গ্রামের সাধারণ কেউ হন তাহলে খাদ থাকবে কমপক্ষে ছয় আনা। একুশ ক্যারেটে মেশানো হয় দুই  থেকে তিন আনা। আর বাইশ ক্যারেটে মেশানো হয় দেড় থেকে দুই আনা। দোকান মালিকের কর্মচারী অর্থাৎ কর্মকাররা মালিককে না জানিয়ে ঐ গহনার সাথে সুযোগ বুঝে মিশিয়ে দেয় আরও কিছু খাদ। যার পরিমাণ ক্রেতা জানেন না। ফলে খাদের পরিমাণ বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে স্বর্ণের গহনার সাথে তামা কিনছেন ক্রেতা। কারণ স্বর্ণের সাথে কী পরিমাণ তামা বা খাদ আছে তা পরীক্ষা করারও নির্ভরযোগ্য কোন প্রতিষ্ঠান নেই মেহেরপুরে। ফলে ক্রেতারা বরাবরই থেকে যাচ্ছেন অন্ধকারে। কোন কোন স্বর্ণকার ক্রয় মেমো দিলেও তাতে খাদের পরিমাণ উল্লেখ করেন না।

মেহেরপুরের বিভিন্ন জুয়েলার্সের কয়েকজন স্বর্ণকার জানিয়েছেন, বর্তমান বাজারে তারা আঠার ক্যারেট মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম নিচ্ছেন ৩৪ হাজার ৫শ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। একুশ ক্যারেটের দাম ৩৯ থেকে ৪২ হাজার এবং বাইশ ক্যারেটের দাম ৪৪ হাজার টাকা। তবে চব্বিশ ক্যারেটের নিখাদ স্বর্ণ পাওয়া যায় না বলে জানান তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্বর্ণকার জানিয়েছেন চব্বিশ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৪৪ হাজার টাকা।

আঠার ক্যারেট মানের এক ভরি স্বর্ণের গহনা বানালে তার মধ্যে স্বর্ণ থাকবে দশ থেকে এগার আনা। অর্থাৎ খাদ বাদ দিলে দশ থেকে এগার আনা স্বর্ণের দাম পড়ছে ৩৫ হাজার টাকা। এ হিসেবে ক্রেতা খাদ বাদে এক ভরি স্বর্ণ কিনছেন প্রায় ৫১ থেকে ৫৬ হাজার টাকায়। তাহলে ভোক্তার কাছ থেকে বেশি নিচ্ছে সাত থেকে বার হাজার টাকা। ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করলে বলা যায়, আঠার ক্যারেটের এক ভরি গহনার মধ্যে মেশানো ২০ বা ৩০ টাকার তামা ক্রেতার কাছে বিক্রি করছে সাত থেকে বার হাজার টাকায়। সাথে আরও নিচ্ছে গহনা তৈরির মজুরি।

একই ভাবে একুশ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নিচ্ছে ৩৯ থেকে ৪২ হাজার টাকা। যার মধ্যে খাদ মেশানো হচ্ছে দুই থেকে তিন আনা। তিন আনা খাদ বাদে খাঁটি স্বর্ণ দাঁড়ায় তের আনা। অর্থাৎ তের আনা স্বর্ণের দাম পড়ছে ৩৯ থেকে ৪২ হাজার টাকা। এ হারে এক ভরির দাম পড়ছে প্রায় ৪৮ থেকে ৫১ হাজার ৭ শত টাকা। অথচ এক ভরি নির্ভেজাল স্বর্ণের বাজার দর হচ্ছে ৪৪ হাজার টাকা।