ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:২২ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আন্দোলনের কৌশল ফাঁসের সুযোগ থাকছেনা

ডিসেম্বরের পরেই ইতিমধ্যে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে এবারের আন্দোলনে কৌশলী সিদ্ধান্ত নেবেন তিনিই। আগেভাগেই ঘোষণা করা হবে না চূড়ান্ত কোন কর্মসূচি। রাজধানীতে আন্দোলন সফলে আগাম কাউকে দায়িত্বও দেয়া হবে না। তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তিনি। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। দলের অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। সুতরাং আন্দোলনের কৌশল ফাঁসের সুযোগ থাকছেনা।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুবদল নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকে করেন তিনি। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ২৯শে ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে বের না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। যুবদল নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে তো মোবাইল ছিল না। তারপরও দলের নেতাকর্মীরা নিজেরা সংগঠিত হয়ে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। কিন্তু তো যোগাযোগের জন্য মোবাইল রয়েছে। আধুনিক যুগে যোগাযোগের এতসব মাধ্যম থাকার পরও দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামেনি। আমার বাসার সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিলেও দলের কোন নেতা আসেনি। এবার আগেভাগে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে না মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, গত ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে রাজধানীকে ৮টি জোনে ভাগ করে ৮ সিনিয়র নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু ওইসব নেতা কেউই দায়িত্ব পালন করেননি। আমি ফোন করেও কাউকে পাইনি। এবার আগেভাগে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে না। এছাড়া আগাম কোন সিদ্ধান্তও নেয়া হবে না। যুবদলের নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আপনারা নিজেরা সংগঠিত হোন। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ান। থানা ও ওয়ার্ডগুলোর নেতাকর্মীদের সংগঠিত করুন। দলের নেতারা সবাই প্রস্তুত থাকবেন। যখনই কর্মসূচি ঘোষণা করবো তখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, কোন ধরনের গুজবে কান দেবেন না। দলের মধ্যে কোন ধরনের বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। সর্বাত্মক আন্দোলন প্রস্তুতি নিন। বৈঠকে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হামিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মজনুসহ ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এরআগে ১০ই ডিসেম্বর রাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সরকার পতন আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে জেলা সফরের ধারাবাহিকতায় আজ নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কাঁচপুরের বালুমাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভাকে ঘিরে নগর বিএনপি নেতাদের দ্বন্দ্ব-বিভেদ ও মান-অভিমানের অবসান ঘটেছে। এতদিন পাল্টাপাল্টি বিষোদগার, বক্তব্য আর বিরোধের কারণে দলের নেতাকর্মীরাও ছিল বিভক্ত। তবে তাদের নেত্রী আসার একদিন আগেই অবসান হয়েছে বিরোধের। গতকাল সকালে জেলা বিএনপির সভাপতির বাসায় ও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ শেষতক এক হয়ে গেল। এক টেবিলে নেতারা বসে তাদের ক্ষোভের কথা বললেন। ওই সময়ে নিজেকে দল আর নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ‘অভিভাবক’ আখ্যা দিয়ে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার। চোখ ভিজিয়েছেন নোনা জলে। আর এতেই ভাঙলো সকল অভিমান।