ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:২৫ ঢাকা, রবিবার  ২৭শে মে ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

কোন আগাম নির্বাচন নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের আগে কোন আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সমর্থক যারা বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন চায় না, তারাই নির্ধারিত সময়ের আগে সাধারণ নির্বাচন চাইতে পারে।
তিনি বলেন, আওয়ামী যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিনই বাংলাদেশের উন্নয়ন গতি পাবে। যারা এই উন্নয়ন চায় না, তারা আগাম নির্বাচনের জন্য হৈ চৈ করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) এখানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০ তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করার জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সদস্যবৃন্দ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয় ছাড়াও, সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী সাংবাদিকরা বর্তমান রাজনৈতিক ও স্থানীয় ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
নিউ ইয়র্কে তাঁর এ সফরকে সফল অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ২০১৫ পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা সদস্য দেশগুলো বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি অত্যন্ত ‘গণমুখী’ লক্ষ্য। এছাড়াও, তিনি ভারত, জাপান, নেদারল্যান্ডস ও চীনের সঙ্গে অত্যন্ত সফল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশকে হত্যা ও ক্যুর রাজনীতিতে নিমজ্জিত করেছিল, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশ হত্যা ও ক্যুর রাজনীতিতে ঘুরপাক খেয়েছে। সরকার দেশকে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, নিশ্চয়ই যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনীরা দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে এবং তারা অবিরাম তাই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে সরকার দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য সব ধরণের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকায় একজন ইতালিয়ান নাগরিক খুন হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ঘৃণ্য এই খুনের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দুঃখজনক খুনের ঘটনা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বিবৃতি প্রদানকারী একজন বিএনপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।
শেখ হাসিনা বলেন, কেবল বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের সর্বত্রই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, এমনকি নিউ ইয়র্ক সিটিতেই প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগের দুজন নেতাকে খুন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, সরকার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ রোধ করার লক্ষ্যে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহন করছে। কিন্তু, বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মানুষ হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল।
বিএনপি-জামায়াত ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে হত্যার রাজনীতি শুরু করে এবং তারা ২০১৪ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত রেখেছিল। তারা ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সন্ত্রাস চালিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই পুড়িয়ে মানুষ মারার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করবে। কেউ রেহাই পাবে না। তাদের অবস্থান যাই হোক না কেন, আমরা তাদেরকে বিচারের মুখোমুখী করবো।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থায় সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হচ্ছে বিরোধী দল। এটি হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের দেশে আরেকটি দল রয়েছে যারা বিগত নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং জঙ্গিবাদী ও মানুষ মারার কর্মকা-ে লিপ্ত হয়েছিল। তারা কখনও কখনও পরিবহনে অগ্নিসংযোগ, এবং শিশু ও নারী সহ মানুষ হত্যা করে তাদের অস্তিত্ব প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি যদি গণতন্ত্র, বিশেষ করে সংসদীয় পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন, তবে সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলকে বিরোধী দল হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত নিজেদের রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা মূলতঃ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কে বিরোধী দল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন মানুষ আছে যারা মানুষ হত্যা করে যে কোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তবে অস্বাভাবিক অবস্থার জন্য দায়ী খুনিদের বিচার হবেই।
ঢাকায় ইতালির একজন নাগরিকের হত্যাকান্ডে আইএস’র জড়িত থাকা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, শিকাগো থেকে এক বার্তায় এই হত্যাকান্ডে আইএস সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে এখনো কেউ এ দাবি করেনি। আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে এমন কোন তথ্য নেই।
এই হত্যাকান্ডের পেছনে অবশ্যই শক্তিশালী এক চক্র রয়েছে, তারা একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়- একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ কেবল বাংলাদেশে নয়, এটা এখন বৈশ্বিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী- জঙ্গিবাদে নয়। আমরা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান চাই না। একজন বিদেশী নাগরিকের হত্যাকান্ডে আমরা খুবই ব্যথিত। এটা দুঃখজনক ঘটনা।
একজন ইতালীয় নাগরিকের হত্যাকান্ডের পর ঢাকাস্থ কয়েকটি দূতাবাস ঢাকায় অবস্থানকারী তাদের নাগরিকদের প্রতি রেড এলার্ট জারির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, রেড এলার্টের কোন যৌক্তিকতা নেই। নাজমুল যখন নিউইয়র্কে নিহত হয়েছিলেন, সে সময় আমরা এ ধরনের কোন রেড এলার্ট দেখিনি।
তিনি বলেন, নিউইয়র্কে কয়েক বছর আগে দু’জন বাংলাদেশের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার রেড এলার্ট জারি করেনি। অন্যান্য দূতাবাসগুলোও তাদের নাগরিকদের প্রতি এ ধরনের কোন এলার্ট জারি করেনি। আমি জানি না ঢাকায় দূতাবাসগুলো কেন এমনটা করলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নাগরিকদের জন্য রেড এলার্ট দেয়ার কি কারণ থাকতে পারে। আমি জানি না, তবে ওই ঘটনার পরপরই বিএনপি’র একজন নেতার সন্দেহজনক তৎপরতা দেখেছি। আমি মনে করি, ওই বিএনপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ হত্যাকান্ডের রহস্যের উন্মোচন হতে পারে। দেশে ফেরার পর এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবো।
তিনি বলেন, অষ্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট টিম কেন বাংলাদেশ সফরে আসছে না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে আমরা এ ধরনের ঘটনা দেখেছি। পাকিস্তান ও ভারতীয় দল বাংলাদেশে খেলেছে। এমন কি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজনও হয়েছিল এখানে। এটা সম্পূর্ণভাবে অষ্ট্রেলিয়ার ব্যাপার যে কেন তারা বাংলাদেশে সফরে না আসার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ অতীতে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে অনেক ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এসব অনুষ্ঠানে অনাকাক্সিক্ষত কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে অনেক দেশেই তা ঘটেছে- কিন্তু বাংলাদেশে নয়। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের জনগণও খুবই সচেতন।
ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। ইসলামও একথা বলে।
তিনি বলেন, কেউ ধর্মীয় রীতি-নীতি অস্বীকার করলে এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু কেউ ধর্ম বিশ্বাসীদের (আস্তিক) অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে না। যদি কারো ধর্মে বিশ্বাস না থাকে, তবে তিনি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন না। কিন্তু অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া অগ্রহণযোগ্য। কারো এটা করা উচিত নয়। আমার চোখে এটা জঘন্য কাজ।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার পথ খুঁজছে। অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার ঘটনা চলতে থাকলে তা হবে একজন মানুষের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। আমাদের ধর্ম অবমাননা বন্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। অন্যথায় এমন ঘটনা অব্যাহত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান দুর্নীতি ও গ্রেনেড হামলা মামলায় শাস্তি পাবেন কিনা, তা নির্ধারণ করবে আদালত। তবে তিনি একথা বলেন যে, তিনি সব সময় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের শাস্তির পক্ষে।