ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৩৮ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

কোনো সম্পাদকের পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ নয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, কোনো সম্পাদকের পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ নয়, সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সামান্যতম নিয়ন্ত্রণ আরোপের কোনো নীতি বা অভিপ্রায় সরকারের নেই।
তিনি বলেন, সরকার সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিজ্ঞাপনকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে না, করছেও না। সে সুযোগ সরকারের নেই।
তিনি বলেন, সবাই সরকারি বিজ্ঞাপন পাচ্ছে। বেসরকারি বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কোথায় কিভাবে বিজ্ঞাপন প্রদান করবে, তা তাদের নিজস্ব বিষয়। এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
তথমন্ত্রী আজ তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।তথ্য কর্মকর্তা তছির আহমেদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সরকার ডেইলী স্টার ও প্রথম আলোর সাথে বৈরিতা করছে- কেউ কেউ এমন বললেও সত্যি হলো এই যে, ঐ দুইটি সংবাদপত্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা নিয়মিত উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণ করে আসছেন আন্তরিকভাবে, কোনো বৈরিতা নেই।
হাসানুল হক ইনু বলেন, কোনো সম্পাদকের পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ নয়
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার অভিপ্রায় সরকারের নেই। রাজনীতিকদের যেমন ন্যুনতম নৈতিক মান বজায় রাখা উচিৎ, ঠিক তেমনই একজন সম্পাদকের ন্যুনতম নৈতিক মান বজায় রাখা উচিৎ। একজন রাজনীতিক যদি নৈতিকতার বিবেচনায় সমালোচিত হতে পারেন, একজন সম্পাদকও নৈতিকতার বিবেচনায় সমালোচিত হতে পারেন।
গণতন্ত্রে একটি সংবাদপত্র বা একজন সম্পাদক বা সাংবাদিক রাজনীতিকদের সমালোচনা করতে পারেন, তেমনিভাবে একজন রাজনীতিক সংবাদপত্র বা কোনো সাংবাদিক বা সম্পাদকের যৌক্তিক সমালোচনা করার অধিকারও রাখেন কিনা সে প্রশ্ন রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাহলে কোনো রাজনীতিক সংবাদপত্র বা সাংবাদিক বা সম্পাদকের সমালোচনা করলেই এত শোরগোল তোলা হয় কেন?
তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাজনীতিবিদদের যুক্তিসংগত সমালোচনা করলে যেমন গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয় না, ঠিক তেমনই রাজনীতিকরাও যুক্তিসংগতভাবে গণমাধ্যমের সমালোচনা করলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও সংকুচিত হয় না। তবে গণমাধ্যম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে রাজনীতিকদের চরিত্র হননে অপপ্রয়াস পেলে কিংবা রাজনীতিকরা যুক্তি ছাড়া গণমাধ্যমের সমালোচনা করলে গণতন্ত্রের ক্ষতি হয়, গণতন্ত্র বিরোধী শক্তি এ থেকে উৎসাহ পায়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডেইলী স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এক-এগারো সময়কালের ঘটনার বিবরণ মাত্র। এখানে কোনো অত্যুক্তি নেই, বিষোদগার নেই।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই সময়ে সেনা সমর্থিত সরকার কর্তৃক রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মচারী এমনকি গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর যে নির্যাতন-হয়রানী হয়েছিল, তারই পরিষ্কার চিত্র ওঠে এসছে। তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো হিংসা-প্রতিহিংসার বিষয় নেই।’
হাসানুল হক ইনু বলেন, চিহ্নিত ও আত্মস্বীকৃত জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর হাতে বেশ কয়েকজন ব্লগারের গুপ্তহত্যার দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুপ্ত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে। ব্লগার রাজীব হত্যাকান্ডের বিচারও সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, এই জঙ্গিবাদী-উগ্রবাদী গোষ্ঠী শুধু মুক্তমনা ব্লগারই নয়, ইসলামের শান্তিবাদী-সুফীবাদী সাধক ও চিন্তাবিদদের ওপর গুপ্ত হামলা-হত্যা চালাচ্ছে। সরকার খুনী-জঙ্গিবাদী-মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক খুবই স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায় প্রকাশের পর ফেইসবুককে ‘চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে’ বলে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে সারাদেশে নারকীয় তান্ডব-অন্তর্ঘাত-নাশকতা চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘কোনো দায়িত্বশীল সরকার জেনে-শুনে-বুঝে এ ধরনের নারকীয় তান্ডব-অন্তর্ঘাত-নাশকতা থেকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য পদক্ষেপ নিলে তা গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরা হিসাবে চিহ্নিত করাও দুঃখজনক।’
সম্প্রতি এমিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আইএফজে, হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ এর প্রতিবেদনগুলোতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তার জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ সংস্থাগুলোর কর্মকান্ডের দিকে তাকাবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আইএফজে, হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ আজ বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে যতটা উদ্বেগ প্রকাশ করছে, ১৯৭১ সালে যখন সমগ্র বাঙালি জাতির উপর ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা-গণধর্ষণ-যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়েছিল, তখন ঠিক ততটাই নিরব ছিল ।
তিনি উল্লেখ করেন, একইভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে জিয়ার সামরিক শাসনামলে যেভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে কবর দেয়া হয়েছিল, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য জনসভা মঞ্চে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল, এবং এক-এগারো পরবর্তীতে যেভাবে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পদদলিত করা হয়েছিল, তখনও এসব সংগঠনগুলো নিরব ছিল।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যখন ইতিহাসের বর্বরতম যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে, তখন তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে নানা রকম ফন্দিফিকির করছে।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ২ হাজার ৮ শত ৩৪টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এগুলোর বেশির ভাগই সরকারের সমালোচনামুখর। সংসদীয় কমিটি টিআইবি’র নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করেছে, যা তাদের এখতিয়ারভুক্ত। তবে সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।