Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:০৩ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,ফাইল ফটো

‘কোকো’কে গ্রেফতার ও নির্যাতন ছিল নীল নকশার অংশ’

বেগম খালেদা জিয়া কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো’র দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত করেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নীল নকশার অংশ হিসাবে আরাফাত রহমান কোকো’কে গ্রেফতার করে নির্যাতন করেছিল এবং ১/১১’র অবৈধ সরকারের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারও শারীরিকভাবে নিমূর্লের চেষ্টা করে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপি আয়োজিত দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরাফাত রহমান কোকো’র দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১/১১ যে অবৈধ সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের আর্দশের প্রতীক জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করবার যে নীলনকশা ছিল, সেই নীল নকশার অংশ হিসাবে আরাফাত রহমান কোকো’কে গ্রেফতার করে নির্যাতন করেছিল।

তিনি আরো বলেন, একই ধারাবাহিকতায় সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে তারা একদিকে রাজনীতি থেকে অন্যদিকে এবং শারীরিকভাবে নিমূর্ল করার চেষ্টা করেছেন।’

‘এটা বিছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটা এদেশের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আজকে যারা ষড়যন্ত্র করছেন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন সেই নীলনকশার এই একটি অংশ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, ‘আরাফাত রহমান কোকো’র মৃত্যু ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সকলের কাছে অম্লান হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যু আমাদের শোকাহত করেছে কিন্তু এই শোককে ধারণ করে নিশ্চুপ হয়ে থাকলে চলবে না, বরং শোককে শক্তিতে পরিণত করে অপশক্তি ও বিধ্বংসী শক্তিকে অপসারণ ও পরাজিত করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের স্থিতিবস্থাকে নষ্ট করে রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে বিতর্কিত করতে বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা একটি সুষ্ঠু ধারায় বাংলাদেশের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠন করবার জন্য যখন একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। যে প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছেন, কথা বলেছেন। সকলের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মেছিল যে, রাষ্ট্রপতি হয়তো এমন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। অন্যথায় সেই নির্বাচন কমিশন এদেশের মানুষ কখনও মেনে নেবে না।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।