Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:১৮ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর নীতিমালা ঘোষণা

জঙ্গি বা সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ডে সহায়ক এমন ক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের (সিএসআর) অর্থ কোনভাবেই যেন বরাদ্দ না হয়, এ বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বিতরণকৃত সিএসআরের অর্থ কোনরূপ সন্দেহজনক কর্মকান্ডে অর্থায়ন হলে সে ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। এই নির্দেশনার ব্যতয় হলে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বিরোধী আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সব নির্দেশনা সংযুক্ত করে সিএসআর ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি নির্দেশনামূলক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার কেন্দ্রিয় ব্যাংক এই নীতিমালা ঘোষণা করে।
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত সিএসআর নীতিমালা অনুযায়ী বার্ষিক সিএসআর কর্মসূচী প্রণয়ন করতে হবে এবং প্রধান কার্যালয়ে গঠিত আলাদা একটি সিএসআর ইউনিটের মাধ্যমে এটা বাস্তবায়ন হবে। কর্মসূচী দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রয়োজনে একটি ফাউন্ডেশন গঠনা করা যাবে বলেও নীতিমালায় বলা হয়। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীরিক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও এই ইউনিট বা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নজরদারি করবে।
বার্ষিক সিএসআরের অর্থ বরাদ্দের জন্য সিএসআর ইউনিট বা ফাউন্ডেশন থেকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। কর পরবর্তী বার্ষিক নিট মূনাফা থেকে এই অর্থ যোগানের অনুমোদন দেবে পর্ষদ। এক্ষেত্রে পর্ষদের কোন সদস্য, উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টিদের কারো সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে এমন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সিএসআর করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে ওই নীতিমালায়।
এতে আরো বলা হয়েছে, কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোন বছরে কর পরবর্তী মুনাফা না থাকলে নতুন সিএসআর কর্মসূচী হাতে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারবে। তবে আগের কোন প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ব্যয় কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এমন শিক্ষাবৃত্তির মতো সিএসআরকে উদাহরণ হিসেবে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং সবুজ অর্থায়নের মতো অগ্রাধিকার খাতের ঋণ সংক্রান্ত যেসব সিএসআর রয়েছে তাও চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সিএসআর ব্যয়ের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, মোট সিএসআর ব্যয়ের ৩০ শতাংশ শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণে ব্যয় করা যাবে। স্বল্প আয়ের পরিবার থেকে উঠে আসা এবং নাম করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া যাবে। এক শিক্ষার্থী যাতে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি নিতে না পারে সেজন্য পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে নীতিমালায়।
পরবর্তী খাত হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত জনগণের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। মোট সিএসআর ব্যয়ের ২০ শতাংশ এ খাতে ব্যয় করা যুক্তিযুক্ত হবে। এ খাতে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে রোগ নিরাময়ে প্রদত্ত প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা, সুবিধাবঞ্চিত জনগনের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত হাসপাতাল, রোগ নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি পরিচালনায় আর্থিক সাহায্য, এবং গনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন, বিশুদ্ধ পানি, দরিদ্র ও শহরাঞ্চরের ভ্রাম্যমান জনগনের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যয়িত অর্থ সুবিবেচিত হবে।