ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:২৩ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

কেওয়াইসির জন্য হিসাব বন্ধ করা যাবেনা

সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি (কেওয়াইসি) না থাকলেই গ্রাহকের হিসাব বন্ধ না করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সাময়িকভাবে এ ধরনের হিসাব শুধুমাত্র ‘সুপ্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখান থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করতে দেওয়া যাবে না, তবে জমা নেওয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে গ্রাহকের আবেদনের ভিত্তিতে কেওয়াইসি সম্পন্ন করে হিসাব নিয়মিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (এফআইইইউ) থেকে সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাস বা জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধে এই ইউনিট কাজ করে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কোনো কোনো ব্যাংক এফআইইউর (আগের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ) নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করে ২০০২ সালের ৩০ এপ্রিলের আগে খোলা হিসাবের মধ্যে কেওয়াইসি পদ্ধতি সম্পন্ন না করা হিসাবসমূহ ‘সুপ্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিবর্তে বন্ধ করে দিচ্ছে, যা আগে দেওয়া নির্দেশনার লঙ্ঘন। এমন প্রেক্ষাপটে নির্দেশনা যথাযথ পরিপালনের জন্য এবং ব্যাংকিং রীতিনীতির বাইরে কোনো হিসাব বন্ধ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও এতে জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একটি সময় ব্যাংকগুলো নিজেদের মতো করে হিসাব খুলতো। তবে ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সার্কুলারের মাধ্যমে হিসাব খোলার আগে গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি (কেওয়াইসি) সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়। পরে ২০০৫ সালের জুলাই মাসে এক নির্দেশনায় ২০০২ সালের ৩০ এপ্রিলের আগে খোলা সব হিসাবের কেওয়াইসি নিতে বলা হয়। এছাড়া ওই নির্দেশনার আগে খোলা সব হিসাবের কেওয়াইসি নিতে ব্যাংকগুলোকে প্রথমে ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল এবং পরে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে অনেক ব্যাংক গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি সংগ্রহ ও হিসাবের তথ্য হালনাগাদ করতে ব্যর্থ হয়।
এফআইইউর পরিদর্শনে বিষয়টি ধরা পড়ার পর সাতটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে গত নভেম্বর মাসে জরিমানা করা হয়। এরপর অনেক ব্যাংক কেওয়াইসি সম্পন্ন না হওয়া গ্রাহকের হিসাব বন্ধ করে দিচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
জরিমানার পর গত ৩০ নভেম্বর ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির পক্ষ থেকে পত্রিকায় ‘অ্যাকাউন্টে গ্রাহক তথ্য হালনাগাদ করুন’ শিরেনামে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গ্রাহক তথ্য হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে শাখায় যার অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেখানে গিয়ে পরিবর্তিত অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্ম পূরণ ও আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব তথ্য হালনাগাদ করার অনুরোধ করা হলো। তথ্য হালনাগাদ না করলে সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্টের লেনদেন, ডেবিট কার্ড ব্যবহার ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।