ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৩৪ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

“কেউ যেন সম্ভবনাময় মৎস্য খাতের ক্ষতি করতে না পারে” – রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিভিন্ন প্রজাতির মিঠা পানির মাছ চাষ ও সংরক্ষণ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মৎস্য খাতের কোন ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৭ পালন উপলক্ষে আজ এখানে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আজকাল সংবাদপত্রের পাতায় প্রায়শই মৎস্য খাদ্য উৎপাদনে ক্ষতিকর কেমিকেল ব্যবহার করার খবর দেখা যায়। অধিক মুনাফার লোভে কেউ যেন এই সম্ভবনাময় খাতের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য অবশ্যই কঠোর নজরদারি চালাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মাছের উৎপাদন বাড়াতে এবং জলাশয়ের যথাযথ ব্যবস্থাপনা বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, মৎস্যজীবী, মৎস্য ব্যবসায়ি এবং বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় জাতের মাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু মাছ বিলুপ্ত হবার উপক্রম হয়েছে। সুতরাং জীববৈচিত্র বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় জাতের মাছের চাষ এবং সংরক্ষণে জনগণকে উৎসাহিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মৎস্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন যথাযথ প্রয়োগের পরামর্শ দেন এবং এই আইন সম্পর্কে জনগণকে, বিশেষ করে মৎস্য উৎপাদনকারি ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং বিশাল উৎসের যথাযথ ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা শুধুমাত্র সরকারের একার দায়িত্ব নয়।

রাষ্ট্রপতি খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আমিষের চাহিদা পূরন এবং বৈদেশিক মূদ্রা আয়ে মৎস্য খাতের ভূমিকার উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের ১১ শতাংশ লোক তাদের জীবন ধারনের জন্য এই খাতের উপর নির্ভরশীল।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মৎস্য উৎপাদন করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনিই ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরা শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশ ২০১৬ সালে মিঠাপানির মাছ চাষে করে বিশ্বে চতুর্থ স্থান অজর্ন করেছিল উল্লেখ করে তিনি এজন্য মৎস্য উৎপাদনকারী, বিজ্ঞানী এবং গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি পরে বঙ্গভবনের ডানাদিঘি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী মুহম্মদ সায়েদুল হক, প্রতিমন্ত্রী, নারায়ন চন্দ্র চন্দ, সচিব এম মাকসুদুল হাসান খান, এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।