Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:২০ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

কুলির নমুনা ফটো

কুলি থেকে কোটিপতি জালিয়াত রহিম

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় জাল টাকা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। এ সময় এক কোটি চার লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের জালনোটও উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, শনিবার রাতে বনশ্রীর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বাসায় এক কোটি চার লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যমানের জাল নোট এবং বেশ কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। গ্রেফতাররা হলেন- আব্দুর রহিম শেখ (৩৫), তার প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৪), দ্বিতীয় স্ত্রী রুবিনা খাতুন (১৯), মোহাম্মদ আসাদ (২২) ও মো. তাজিম হোসেন (২৬)।  এদের মধ্যে রহিম শেখ এই চক্রের হোতা বলে র‌্যাবের দাবি। মুফতি মাহমুদ বলেন, রহিম শেখ পিরোজপুর থেকে ২০০৩ সালে ঢাকায় এসে তেজগাঁওয়ের এক ট্রাক চালকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৮ সালে তিনি মোহাম্মদপুরের জালনোট চক্রের হোতা হুমায়ুনের সঙ্গে যোগ দেন এবং তার কাছেই ‘এই বিদ্যা’ রপ্ত করেন। পরে বনশ্রী আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে দুই স্ত্রীকে কাজে লাগিয়ে জাল টাকা তৈরি শুরু করেন রহিম।

rab29-6রোববার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে গ্রেফতার পাঁচজনকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় তারা জাল টাকা বাণিজ্যের বিষয়ে নানা তথ্য দেন। র‌্যাব হেফাজতে রহিম শেখ জানান, টাকা তৈরির জন্য তিনি প্রথমে টিসু কাগজের এক পাশে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি স্ক্রিনের নিচে রেখে গাম দিয়ে ছাপ দেন। এরপর ৫০০ ও ১০০০ লেখা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রামের ছাপ দেয়া হয়। পরে অপর একটি টিসুপেপার নিয়ে ফয়েল পেপার থেকে টাকার পরিমাপ অনুযায়ী নিরাপত্তা সুতা কাটা হয়। সুতা কাটার পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি জলছাপ দেয়া টিসুপেপারের সঙ্গে গাম দিয়ে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। এভাবে টিসুপেপার প্রস্তুত করে বিশেষ ডট কালার প্রিন্টারের মাধ্যমে ল্যাপটপে সেভ করা টাকার ছাপ অনুযায়ী প্রিন্ট করা হতো। আবদুর রহিম জানান, জাল টাকা তৈরির পর বিশেষভাবে বান্ডিল করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত তার চক্র।
আবদুর রহিম শেখ বলেন, তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে কুলিগিরি করেন। তারপর তেজগাঁওয়ে ট্রাকস্ট্যান্ডে হেলপারির কাজ শুরু করেন। এরপর ২০০৮ সালে অসাধু জাল টাকা তৈরি চক্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই চক্রটির মূল হোতা হুমায়ুন মোহাম্মদপুরে জাল টাকা তৈরি করত। আবদুর রহিম ওই চক্রের কাছ থেকে জাল টাকা সংগ্রহ করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করত।
আবদুর রহিম বলেন, দুই স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে খুব কষ্টে দিন যাপন করত। তাই তিনি জাল টাকা তৈরির কৌশল শিখে নিজেই জাল টাকা তৈরি শুরু করেন। এ ব্যবসা শুরু করার পর থেকেই তার অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। তিনি এখন দুই স্ত্রীকে নিয়ে বনশ্রীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকেন। বাড়ি করেছেন পিরোজপুরে। সম্প্রতি কিনেছেন একটি ব্যক্তিগত গাড়িও। জাল টাকা তৈরির কৌশল আয়ত্ত করে দুই স্ত্রীকে গ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তিনি। কয়েকজন নিকটাত্মীয়কেও ঢাকায় এনে এ ব্যবসায় জড়ান।