ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:২৮ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

কিশোরকে বিবস্র করে নির্যাতন: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়

ফেনিতে এক কিশোরকে বিবস্র করে নির্যাতনের অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল কয়েকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক কিশোরকে কয়েকজনে মিলে পিটাচ্ছে, শুধু পিটানোই নয় তাকে বিবস্র করেও নির্যাতনের স্পষ্ট চিত্র দেখা যাচ্ছে। আর কিশোরটি নিজেকে বাঁচাতে প্রানপন আকুতি জানাচ্ছে। তবুও নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই মিলছিলনা। চুরির মিথ্যা অভিযোগে নাকি তাকে নির্যাতন করা হয়। চুরির অভিযোগ মিথ্যা হোক বা সত্যি হোক নির্যাতন করেছে এটা প্রমানিত। ধরে নিলাম ছেলেটি সত্যিই অপরাধী তবে সেই জন্য আইনকে কেউ হাতে তুলে নিতে পারে না। সেটাতো পুলিশের কাজ।

এ নির্যাতনের প্রতিবাদে বিশেষ করে ফেসবুকে অজানা-অচেনা কিশোর ছেলেটির বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষ সোচ্চার। তাদের লাইক, শেয়ার, মন্তব্যে ভেসে যাচ্ছে ফেসবুক। অভিযোগের তীর সাম্প্রদায়িকতার দিকে। ফেণীর পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে। নতুবা তনু হত্যাকান্ডের মত বিষয়টি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। উল্লেখ্য কুমিল্লার ‘তনু হত্যা’র বিচারের দাবি প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিল। যা নিয়ে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। কিশোর ছেলেটির নির্যাতনের বিষয়টি যেহেতু সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তাই কোন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাতের আগেই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিবৃতির মাধ্যমে জনমনের ক্ষোভের অবসান ঘটানো একান্ত আবশ্যক। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে সংঘটিত বেশ কয়েকটি শিশু/কিশোর/কিশোরী নির্যাতনের ঘটনায় সরকার তথা পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তির প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।

nirzaton21

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ঘটনার বিবরণে জানাযায় গত শুক্রবার চুরির মিথ্যা অভিযোগে এক মুসলিম কিশোরকে ঘরের পিলারের সঙ্গে বেধে বিবস্র করে রড়.বিদুৎ সর্ট দিয়ে নির্মম ও অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং একপর্যায়ে সড়কের ওপর লাগানো ব্যানার ছিঁড়ে কফিন বন্দীর মত বেঁধে ফেলেন ফেনীর প্রভাবশালী এক হিন্দুনেতা ও তার সঙ্গীরা। ওই নেতা শহরের কালি মন্দির মার্কেটের হরে কৃষ্ণ ষ্টোরের মালিক অর্জুন দাস। নির্যাতনের পরে অসুস্থ অবস্থায় ছেলেটিকে রাতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার ভাগ্যে কি পরিনতি ঘটেছে তা কারো জানা নেই। সাম্প্রদায়কিতার প্রশ্ন তুলে বলা হচ্ছে অর্জুন দাসের এত সাহস কিভাবে হলো?  নির্যাতনকরীদের ক্ষমতার উৎস কোথায় ? মুসলমান বলেই কি নিখোঁজ হয়ে যাবে ছেলেটি!? এসব জানতে চেয়ে অমানবিক ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানানো হচ্ছে।

যদিও নির্যাতন/অত্যাচারের স্বীকার ছেলেটির পরিচয় উল্লেখ করে নাই। শুক্রবার জুমার নামাজের পর কিশোরটিকে শহরের কালিপাল দশমী ঘাট সংলগ্ন প্রদীপ চন্দ্র দাসের ওয়ার্কশপের সামনে এ নির্যাতন চালায়।