ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৪৮ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন। আপনাদের সহযোগিতা আমাদেরকে অনুপ্রানিত করবে।

 

বেশ কয়েকটি কার্যদিবসের টানা দরপতনের পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারই লেনদেন শেষ করে সূচকের উন্নতি ধরে রেখে। তবে অন্যান্য দিনের মতো গতকালও লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টা কাটে সূচকের ওঠানামায়। কিন্তু শেষ দুই ঘণ্টায় পাল্টে যায় বাজার আচরণ। এ সময় টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে পার করে বাজারগুলো। সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি দিয়েই দিন শেষ করে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি গতকাল দিনশেষে ৪৮ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এর আগে গত সাত কার্যদিবসে সূচকটির ২৪৮ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। গতকাল তার ৪৮ পয়েন্ট ফিরে পেল পুঁজিবাজারটি। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১৯ দশমিক ১৭ ও ১৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচক যথাক্রমে ১২৯ দশমিক ৬২ ও ৭৯ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৮ দশমিক ০৪ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে সিএসই-৫০ সূচকের।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পতনের রাশ টেনে ধরতে বিনিয়োগকারীদের সাহসী না হয়ে উপায় ছিল না। এমনিতেই বেশ কিছু দিন দরপতনের মধ্যে থাকায় বেশির ভাগ শেয়ারের মূল্যস্তর কমে গেছে। তার ওপর সামনেই বিগত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু হবে। তাই কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও বিনিয়োগকারীরা ক্রয়চাপ বাড়িয়েছেন, যা দীর্ঘ দিন পর সূচককে প্রকৃত অর্থেই ঊর্ধ্বমুখী করে তোলে। তা ছাড়া বেশির ভাগ কার্যদিবসে লেনদেনের শেষভাগে বাজারে স্বাভাবিক যে বিক্রয়চাপ তৈরি হয় গতকাল তাও ছিল অনুপস্থিত। ফলে বৃদ্ধি সূচকের উন্নতির প্রায় পুরোটাই ধরে রাখতে সক্ষম হয় পুঁজিবাজারগুলো।
এ কথার সত্যতা মিলে কয়েকজন বিনিয়োগকারীর বক্তব্যেও। গতকাল ট্রেডিং শেষে ডিএসইর সামনে উপস্থিত কয়েকজন বিনিয়োগকারী বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সবার। এখন ঝুঁকি নিয়ে হলেও পতনের রাশ টেনে ধরা ছাড়া বিকল্প নেই। তাই করেছেন অনেকে। ফলে দিনের শেষভাগে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তাদের মতে, এখন পুঁজিবাজার অনেকটা অভিভাবক ছাড়া চলছে। বাজার কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। তাই যা করার বিনিয়োগকারীদেরই করতে হবে। কিন্তু এভাবে কয়েক দিন বাজারকে টিকিয়ে রাখা যাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, এখন প্রতিদিনই বাজার পড়ে যাচ্ছে আতঙ্কে। এটা কাটিয়ে তোলা গেলেই স্বাভাবিক আচরণ করবে বাজার। তখন বরাবরের মতোই বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগ বাজারে ফিরবেন। আস্থাহীনতা কাটিয়ে ওঠা গেলে সাইড লাইনে থাকা অনেকেই নতুন করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে আসবেন। তবে তারা মনে করেন এ দায়িত্ব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়াগকারীদেরই নেয়া উচিত। কারণ তাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা অনেক বেশি।
গতকাল সকালে লেনদেনের শুরুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় হলেও বরাবরের মতো লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। ঢাকায় চার হাজার ৭০৯ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি দুপুর ১২টার দিকে নেমে আসে চার হাজার ৬৮৪ পয়েন্টে। কিন্তু লেনদেনের এ পর্যায়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাজারটি। দিনের বাকি সময় কোনো ধরনের বিক্রয়চাপ ছাড়াই এ প্রবণতা ধরে রাখে। দিনশেষে চার হাজার ৭৫৭ দশমিক ১০ পয়েন্টে এসে স্থির হয় ডিএসইর প্রধান সূচকটি।
এ দিকে দিনের শুরুতে বড় ধরনের দরপতনের শিকার বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো দিনের শেষভাগে এসে হারানো দরের পুরোটা ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে। তবে গতকাল বাজারের মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা খুব একটা দেখা যায়নি। গতকালও এ খাতের বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারাতে দেখা যায়। বিপরীতে প্রকৌশল, সিমেন্ট, সিরামিকস, রসায়ন, জ্বালানি ও টেক্সটাইল খাতের অবস্থান ছিল ভালো। এ খাতগুলোর বেশির ভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল রসায়ন খাত। এ খাতের প্রায় শতভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। ঢাকা বাজারে লেনদেন হওয়া ৩০৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ২০৯টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ৬২টি কোম্পানি ও ফান্ড দর হারায় এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৩০টি সিকিউরিটিজের ১৫৩টির দাম বাড়ে, ৫৩টির কমে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত থাকে।
দুই বাজারেই গতকালও লেনদেনের শীর্ষস্থানটি দখলে রাখে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল। ঢাকায় ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৫৫ লাখ ৮১ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ৯ কোটি ০৭ লাখ শেয়ার লেনদেন করে দিনের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান জিএসপি ফিন্যান্স। গতকাল কোম্পানিটি বিগত অর্থবছরের জন্য ৫৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করলে দিনের লেনদেনে এগিয়ে যায় কোম্পানিটি। ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির তাািলকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল গ্রামীণফোন, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, আইডিএলসি ফিন্যান্স, সাইফ পাওয়ারট্রেক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, চিটাগাং ভেজিটেবল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও অগ্নি সিস্টেমস।
১১ দশমিক ১১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে গতকাল ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম ৮.১২, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ৭.৯৭, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট ৭.৫৮, কাসেম ড্রাইসেল ৬.২২ ও আর এ কে সিরামিকসের ৬.২২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। পক্ষান্তরে দিনের সর্বোচ্চ দরপতন ঘটে জেমিনি সি ফুডের। ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি।