ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৫১ ঢাকা, শুক্রবার  ১৭ই আগস্ট ২০১৮ ইং

কাশ্মীরী তরুণদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে ছবিটি

কাশ্মীরী হিজবুল মুজাহিদীনের ছবি ফেসবুকে, ভারতে উদ্বেগ

ভারত-শাসিত কাশ্মীরের একদল সশস্ত্র জঙ্গীর একটি গ্রুপ ফটো যেভাবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে তা ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীকে রীতিমতো উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে।

ওই রাজ্যে মোতায়েন সেনা সূত্রগুলি বলছে, একে-ফর্টি সেভেন রাইফেল হাতে ছবির ওই যোদ্ধারা হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য এবং সেখানে তরুণদের মধ্যে উগ্রপন্থার আদর্শ ছড়িয়ে দিতেই কৌশলে তারা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা শুরু করেছে।

দক্ষিণ কাশ্মীরের কোনও একটি আপেল বাগানে এগারোজন জঙ্গীর হাস্যোজ্বল ওই গ্রুপ ফটো গত কয়েকদিনে ফেসবুকে হাজার হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে।

মূলত কাশ্মীরী তরুণদের মধ্যেই ছবিটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে – এবং ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর ধারণা ওই রাজ্যের যুবকদের উগ্রপন্থার দিকে টেনে আনতেই ছবিটি ফেসবুকে আপলোড করা হয়েছে।

ছবির জঙ্গীদের সবার হাতেই রয়েছে অত্যাধুনিক একে-ফর্টি সেভেন রাইফেল, আর দক্ষিণ কাশ্মীরের কোথাও হিজবুল মুজাহিদিনের কোনও সম্মেলনের পরই এই গ্রুপ ছবিটি তোলা হয় বলে তারা ধারণা করছে। ছবিতে রয়েছেন কাশ্মীরের এক মন্ত্রীর সাবেক দেহরক্ষীও, মাসতিনেক আগে দুটি রাইফেল নিয়ে যিনি পালিয়ে যান।
তবে শ্রীনগরে ইউনিভার্সিটি অব কাশ্মীরের তরুণ অধ্যাপক ড: তাসলিম আহমেদ ওয়ার বিবিসিকে বলছিলেন, সে রাজ্যে কোনও জঙ্গী গোষ্ঠীর প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা কিন্তু বেশ কঠিন।

তাঁর কথায়, ‘যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এ রাজ্যে আছে তাতে আমার মনে হয় না কোনও জঙ্গী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগাতে পারবে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সাইবার সেল তো নজরদারি চালাচ্ছেই, আরও নানা এজেন্সিও মনিটরিং করছে – এছাড়া দিল্লির কোনও নেতা এলে বা সামান্যতম কোনও গন্ডগোলের সম্ভাবনা থাকলেই এখানে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটা এখানে সবারই জানা।’

যে সব সাইটে এই ছবিটি আপলোড করা হয়েছে, ভারতীয় নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো তার সবই এখন কাশ্মীরে ব্লক করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ইতিহাসের অধ্যাপক কাজী সুফিওর রহমান বলছিলেন, উগ্রপন্থার বীজ যেন ওই অঞ্চলের মানুষের ভেতরেই আছে – আর এই যুগে তাতে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারও একরকম অনিবার্য।
অধ্যাপক রহমানের কথায়, ‘গত দুশো বছরের ইতিহাস দেখলেই দেখা যাবে ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উগ্রপন্থার প্রতি একটা ঝোঁক আছেই। আর এখন জঙ্গীদের মধ্যেও বেশ শিক্ষিত লোকজন ঢুকেছে – আর ফেসবুক, টুইটার ব্যবহার করার জন্য খুব শিক্ষিত হওয়ারও দরকার নেই, ফলে তারা সোশ্যাল মিডিয়াকে নিজেদের প্রচারে কাজে লাগাতে চাইেবন তা বলাই বাহুল্য!’

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে ফেসবুক বা টুইটার গত কয়েক বছরে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

দিল্লির ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের কর্ণধার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি বলছিলেন তার একটা বড় কারণ ভারত সেখানে চীনের মতো ইন্টারনেট ব্লক করেনি বা করতে পারেনি।

মি ব্যানার্জি বলছিলেন, ‘চীন যেভাবে সঙ্গে সঙ্গে একটা আপত্তিকর খবর বা সাইট ব্লক করে দিতে পারে, কাশ্মীরে ভারতের তা করার মতো মেকানিজম বা লোকবল কিন্তু নেই। ভারত মনে করেছে সেটা করা সম্ভব নয় বা হয়তো উচিতও নয়।’ খবর বিবিসি বাংলার।

কারণটা যাই হোক, সোশ্যাল মিডিয়াতে জঙ্গীদের কৌশলী প্রচার যে ঠেকানো পুরোপুরি সম্ভব নয়, ভারতের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো তা স্বীকারও করছে। ফলে তাদের হাতে এর মোকাবিলার একটাই রাস্তা বাকি থাকছে – তা হল পাল্টা প্রচার এবং কাশ্মীরী তরুণদের তথাকথিত মূল স্রোতে টেনে আনার চেষ্টা।