Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৪৭ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী
রুহুল কবির রিজভী, ফাইল ফটো

“কারা টাকা পাচার করছে ‘সরকারও জানে-জনগণও জানে” – বিএনপি

দুর্নীতি আর লুটপাটের টাকা ক্ষমতাসীনরা সুইস ব্যাংকে পাচার করেছে বলে অভিযোগ তুলে বিএনপি বলেছে, ‘সরকারও জানে জনগণও জানে ‘কারা সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার করছে, কারা কানাডায় বেগম পল্লী গড়ে তুলেছে, কারা মালেশিয়ায় সেকেন্ডহোম বানাচ্ছে।’

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই সব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সরফত আলী সপু, তাইফুল ইসলাম টিপু, এম এ মালেক উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা রাখার পরিমাণ আরও বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। অথচ সারা দুনিয়া থেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমার পরিমাণ কমেছে। ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় বিনিময় করলে এর পরিমাণ দাঁডায় প্রায় ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকায়। ২০১৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগের বছরের চেয়ে এ জমার পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসএনবির বার্ষিক এ প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশের অর্থ জমার এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রিজভী বলেন, মূলত দুর্নীতি আর লুটপাটের টাকা সুইস ব্যাংকে পাচার করেছে ক্ষমতাসীনরা। গতকাল অর্থমন্ত্রী সংসদে যে বলেছেন ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত নাজুক। লালবাতি জ্বলার উপক্রম হয়েছে। সে ব্যাংক লুটের টাকাই সুইস ব্যাংকে পাচার হয়েছে বলে সবাই বিশ্বাস করে। টাকা পাচারের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের লোকেরা জড়িত। তা না হলে অর্থমন্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অসহায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন না। সত্যিকার অর্থে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। এছাড়া সুশাসনের অভাবে বিনিয়োগ পরিবেশের ঘাটতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশ থেকে বিদেশে অর্থ নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়ছে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জোর করে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। লুটপাটের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সমস্ত আর্থিকখাত ধ্বংস করে দিয়েছে। যা গতকাল অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে কিছুটা ফুটে ওঠেছে। তাছাড়া বেসিক ব্যাংক কেলেংকারি, হলমার্ক কেলেংকারি, শেয়ারবাজার কেলেংকারি, সোনালীব্যাংক কেলেংকারি, অগ্রণীব্যাংক কেলেংকারি, রুপালিব্যাংক কেলেংকারির মতো বড় বড় ঘটনা ঘটেছে। অথচ একটিরও বিচার হয়নি বা সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। অবৈধ ভোটারবিহীন সরকার কেলেংকারি ছাড়া জনগণকে আর কিছুই উপহার দিতে পারেনি। এর পেছনে কারা জড়িত তা সরকার ভালো করেই জানে। জনগণও জানে। কারা সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার করছে, কারা কানাডায় বেগম পল্লী গড়ে তুলেছে, কারা মালেশিয়ায় সেকেন্ডহোম বানাচ্ছে তার জবাব জনগণ একদিন দিবে। আর সেজন্যই তাদের জনগণকে এত ভয়। তাই কি করে ভোট ছাড়া আরেকটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা যায় সে পৈশাচিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। ভোটারবিহীন সরকারকে জনগণের জবাব দেয়ার সময় হয়ে গেছে। জনগণের হাত থেকে পালানো আর সহজ হবে না। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলতে চাই দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকসহ বিদেশে পাচারের জন্য দায়ীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তথা সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর এবারের ঈদ যাত্রা নিয়ে দেয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনাও করেন রিজভী।