কর্মক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারী বস বেশি হতাশ

 সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এক গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মী নিয়োগ এবং বিতাড়নের ক্ষেত্রে পুরুষরা নারীদের চেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

জার্নাল অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যল বিহেভিয়্যার প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের গবেষকরা উইসকনসিন হাই স্কুলের ২৮০০ জন গ্রাজুয়েট ওপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য জানতে পারেন। ১৯৯৩ এবং ২০০৪ সালে ১৩০০ জন পুরুষ এবং ১৫০০ নারীর ওপর টেলিফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ গবেষণা চালানো হয়।

এ জন্য গবেষকরা ৫৪ বছর এবং পরবর্তীতে ৬৪ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের ওপর কর্তৃত্বের অবস্থানে থাকার সময় হতাশামূলক অনুভূতির কথা জানতে চান। এ সময় তারা হতাশার অন্যান্য কারণ, যেমন- কর্মঘণ্টার প্রতিও নজর রাখেন।

গবেষণায় দেখা যায়, কর্ত্রীর অবস্থানে নারীদের মাঝে হতাশা ৯ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে কর্তার অবস্থানে পুরুষদের মাঝে হতাশা ১০ শতাংশ কমে এসেছে।

প্রধান গবেষক টেটায়ানা পুরড্রস্কভা জানান, এই নারীরা শিক্ষা, আয়, পেশা, সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে অন্য যে কারো চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিম্ন পর্যায়ের নারীদের চেয়েও শোচনীয়।

তিনি আরও জানান, কর্ত্রীর অবস্থানে একজন নারীকে ব্যক্তিগত টানাপোড়েন, বিরূপ সামাজিকতা, ছাঁচিকরণ, কুসংস্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং অন্যান্যের কাছ থেকে প্রাপ্ত বাধার সাথে মোকাবেলা করতে হয়।

এ সম্পর্কে সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের শিক্ষাবিদ ড. রুথ সিলি বলেন, নারীরা কর্তৃত্বের অবস্থানে লিঙ্গ বৈষম্যের ফাঁদে পড়ে যান।

তিনি জানান, নারীরা যখন পুরষদের মতো কর্তৃত্বের গুণগুলো আত্মীকরণ করেন, তখন তাদের নারীবিবাদী বলে সমালোচনা করা হয়। আবার যখন তারা নারীর আচরণের নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন, তখন তাদের কেউ নেতা হিসেবে মানতে চায় না। তার মতে, পুরুষদের মতোই নারীদের প্রাকৃতিকভাবে নেতা হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।

সর্বশেষ সংশোধিত: