ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:১৫ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প অনুমোদন : ব্যয় হবে ৮৪৪৬ কোটি টাকা

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দেশের প্রথম বহুল আলোচিত টানেল নির্মাণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এটি নির্মিত হলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের যান চলাচল সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুমুখী সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮,৪৪৬ কোটি টাকা। এটি নগরীর বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত হবে। বিশেষ করে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা এবং শিল্পাঞ্চল জোন ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকতের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
একনেক চেয়ারপার্সন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেকের ১৩তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, একনেক আজ কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ প্রকল্পসহ ১৬,৯৭৮ কোটি টাকার মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে জাতীয় কোষাগার থেকে সরকার দেবে ১১,৭২৫ কোটি টাকা। ৪.৯২ কোটি টাকা পাওয়া যাবে নিজস্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে এবং বাকি ৫,২৪৮ কোটি টাকা পাওয়া যাবে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্ণফুলী টানেলকে বর্তমান সরকারের একটি স্বপ্নের শহর হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। টানেল প্রকল্পের মোট বরাদ্দের জন্য সরকার দেবে ৩,৬৪৭ কোটি টাকা। চীন প্রকল্প সহায়তা হিসেবে কাবি ৪,৭৯৯ কোটি টাকা দেবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। টানেল নির্মাণের জন্য সরকার একটি চীন ফার্মের চুক্তি করেছে।
প্রকল্পের প্রধান কাজ হলো ৩.৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল টানেল নির্মাণ, ৪.৮৯ কিলোমিটার সংযোগ টানেল নির্মাণ এবং টোল প্লাজা ও অন্যান্য সুবিধা নির্মাণ করা।
সরকারি সূত্র জানায়, কর্ণফুলী নদীটি দু’টি অংশে চট্টগ্রাম জেলাকে বিভক্ত করেছে এর একটি অংশে নগরী ও বন্দর এবং অপর অংশে ভারী শিল্প। কর্ণফুলী নদীর ওপর ইতোমধ্যেই তিনটি সেতু নির্মিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও নগরীতে যান চলাচলের জন্য যথেষ্ট নয়। কর্ণফুলী নদীর ওপর আরো সেতু নির্মাণের চেয়ে টানেল নির্মাণ যুক্তসঙ্গত।
বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে অধিকাংশ আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম চলে। টানেল বন্দর নগরীর অন্যান্য অংশের সঙ্গে বন্দরের সংযোগ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অংশের মধ্যে বন্দর নগরীর সংযোগ স্থাপন করবে।
একনেক বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পসমূহ হচ্ছে- ৫শ’ ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ইস্টাবলিশমেন্ট অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি, ঢাকা শীর্ষক প্রকল্প, ৭৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ইন্দ্রপুল থেকে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ প্রকল্প, ৩৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কনস্ট্রাকশন অব এডমিনিস্টেটিভ বিল্ডিং এন্ড সেইলরস ব্যারাক ফর থ্রি কোস্ট গার্ড স্টেশন, ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প, তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, এক হাজার ৩শ’ ৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে চল্লিশটি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে একটি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্প, ১শ’ ২২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সুবিধাদি উন্নয়ন প্রকল্প, ১শ’ ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প ১ম পর্যায় শীর্ষক প্রকল্প, ৪শ’ ৩৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চলের প্রি-পেমেন্ট ই-মিটার স্থাপন (পর্যায়-১), ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প এবং ২শ’ ৬৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রুন স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন (৩য় পর্যায়) প্রকল্প।
বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ যোগ দেন। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যগর্ব ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণও উপস্থিত ছিলেন।