যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী জো বাইডেন করোনা মহামারির কারণে নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করবেন না। তার নজিরবিহীন এ ঘোষণা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।

জো বাইডেন চার সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। মনোনীত হওয়ার পর মঙ্গলবার এই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি ডাক্তারের নির্দেশ অনুসরণ করতে যাচ্ছি। এটি কেবল আমার জন্যে না, পুরো দেশের জন্যে। এর অর্থ আমি কোন নির্বাচনী সমাবেশ করতে যাচ্ছি না। একইসঙ্গে তিনি জানান, তিনি এখনও কোভিড -১৯ শনাক্তে কোন পরীক্ষা করাননি।

তবে বাইডেন(৭৭) যে ডাক্তারের নির্দেশনার কথা বলেছেন তা তার ব্যক্তিগত ডাক্তার নয়, বরং বড়ো কোন সমাবেশে যোগ না দিতে আমেরিকানদের প্রতি সরকারের বিধিনিষেধের কথাই তিনি তুলে ধরেছেন। তবে মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হলে তিনি তার সিদ্ধান্ত পাল্টাবেন কিনা এ বিষয়ে কিছু বলেননি।

তিনি যদি ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন পর্যন্ত সমাবেশের আয়োজন না করেন, তবে তা হবে আধুনিক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ।

আমেরিকায় করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নিয়ে দিন দিন উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাইডেনের এ ঘোষণাটি এলো। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে ১ লাখ ২৭ হাজারেরও বেশি লোক মারা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগ বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ এন্থনি ফাউচি মঙ্গলবার কংগ্রেসে সতর্ক করে বলেছেন, সংক্রমণ রোধে ব্যাপক উদ্যোগ না নিলে প্রতিদিনকার সংক্রমণ দ্বিগুণ বেড়ে এক লাখেরও বেশি হতে পারে।

এদিকে বাইডেন তার বক্তব্যে নানা বিষয়ে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে করোনা মোকাবেলায় তিনি টাম্পের ব্যর্থতাকে দায়ী করে বলেন, ট্রাম্প আমাদের ব্যর্থ করে দিয়েছেন। মাসের পর মাস ধরে আমরা তাকে পদক্ষেপ জোরদারের কথা বলেছি। কিন্তু তিনি আমাদের ব্যর্থ করে দিয়েছেন।

ট্রাম্প বরাবরই করোনা হুমকিকে গুরুত্বহীনভাবে তুলে ধরে আসছেন। তিনি ওকলাহোমা ও আরিজোনায় যে নির্বাচনী সমাবেশ আয়োজন করেন তাতে অংশ নেয়া অধিকাংশকেই মাস্ক ছাড়া দেখা গেছে।

এদিকে ট্রাম্প আবার নির্বাচনী সমাবেশ শুরুর বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

তবে মঙ্গলবার তার দল জানিয়েছে, তারা ঘোষণার জন্যে নতুন তারিখ ও স্থানের কথা এখনও জানেনি।