ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৩৫ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব : পরিকল্পনামন্ত্রী

করহার হ্রাস করে এর আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করহার হ্রাস করে এর আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের দেশে করহার বেশি। মাত্র ১ শতাংশ মানুষ কর দেয়। করহার হ্রাস করলে অনেকেই কর প্রদানে উৎসাহিত হবেন।এতে রাজস্ব আয় বাড়বে।’
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে চেম্বার ভবনে অর্থনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট রিপোর্টিং’ বিষয়ক এক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইআরএফ সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)’র সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী রাজস্ব আহরণ ও করের আওতা বাড়াতে কর প্রশাসনে জনবল বৃদ্ধি, দোকানে ইসিআর মেশিন বসানোসহ কর খাতের অবকাঠামো নির্মাণ এবং আয়কর আইন সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন,‘করের আওতা বাড়াতে হলে কর প্রশাসনে জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমান সরকার করের আওতা বাড়াতে কাজ করছে।আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, তখন মাত্র ২ উপজেলায় কর অফিস ছিলো।এখন ৬২ উপজেলায় অফিস হয়েছে।’ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে প্রত্যেক উপজেলায় কর অফিস দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন,বাংলাদেশে এখনও অনেক সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে, যেখান থেকে আমরা সেভাবে রাজস্ব আহরণ করতে পারছি না। তিনি সম্ভাবনাময় খাতসমূহ চিহ্নিত করে-রাজস্ব আহরণ জোরদার করার পক্ষে মত দেন।
বাংলাদেশে বাজেট প্রনয়ণের বিদ্যমান পদ্ধতি সম্পর্কে মোস্তফা কামাল বলেন,‘আমাদের দেশে এখনও আমরা যথাযথভাবে বাজেট তৈরি করতে পারি না। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ওপর নির্ভর করে আমরা বাজেট তৈরি করে থাকি। কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রস্তুত হওয়া দরকার। সেটা আমাদের দেশে হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, যতবেশি মানুষকে বাজেটে সম্পৃক্ত করা যাবে, ততবেশি সুফল পাওয়া যায়। তবে বাজেট বাস্তবায়ন কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এক্ষেত্রে বেসরকারী খাতেরও দায়বদ্ধতা রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত ৬ বছরে দেশে বাজেটের আকার তিনগুন বেড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় আসে,তখন বাজেটের আকার ছিলো ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরে ৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি বাজেট হতে যাচ্ছে । ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর দেশের স্বার্থে সাংবাদিকদের নৈতিকতা ও সততা বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন করার আহবান জানান।
কর্মশালার তিনটি কর্মঅধিবেশনে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আরস্তÍ খান, বিসিএস কর একাডেমির মহাপরিচালক রঞ্জন কুমার ভৈামিক, এনবিআরের গোয়েন্দা ভ্যাট ইউনিটের মহাপরিচালক ড. আব্দুর রউফ ও প্রথম সচিব মোহাম্মদ ইহতাশামুল হক এবং প্রথম আলোর হেড অব রিপোটির্ং শওকত হোসেন মাসুম প্রশিক্ষণ দেন।
কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ৫০ জন অর্থনৈতিক প্রতিবেদক অংশগ্রহণ করেন।