শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:০৬ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৭ই জানুয়ারি ২০১৯ ইং

কিক-এর পোশাক
কিক-এর পোশাক

করাচির গার্মেন্টসে আড়াইশ প্রাণহানি: মামলা খারিজ

২০১২ সালে পাকিস্তানের করাচিতে একটি পোশাক কারখানায় আগুন লেগে আড়াইশ’র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন৷ ঐ কারখানাতে কিক-এর পোশাক তৈরি হতো৷ তাই জার্মান এই কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করেছিলেন চার পাকিস্তানি নাগরিক৷ তাঁদের মধ্যে তিন জনের ছেলে ঐ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন৷ অন্যজন বেঁচে যাওয়াদের একজন৷

বাদীরা প্রত্যেকে ৩০ হাজার ইউরো করে ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন৷

তবে ডর্টমুন্ডের আদালত পাকিস্তানের আইনের উল্লেখ করে মামলা খারিজ করে দিয়েছে৷ আদালত বলেছে, ঐ আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে৷

ঐ আদালতের এক মুখপাত্র বলেছেন, বিচারকরা আদালতের নিয়োগ দেয়া বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, মামলাটি দুই বছরের মধ্যে দায়ের করা হয়নি৷

তবে বাদী পক্ষের আইনজীবী মিরিয়াম সাগে-মাস রায়ের পর বলেন, ‘‘আমরা হতাশ, কারণ, আমরা এখনো বিশ্বাস করি, পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী ‘স্ট্যাচুট অফ লিমিটেশনস’-এ বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে, পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী মামলাটি সময় দ্বারা নির্দিষ্ট নয়৷’’

এদিকে, কিক-এর আইনজীবী গুন্টার লেলাইটার বলেন, কারখানায় আগুন লাগার বিষয়টি একটি ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ এবং কারখানার খারাপ পরিস্থিতির কারণে আগুন লাগেনি৷

দুর্ঘটনার পর পাকিস্তানে গঠিত একটি তদন্ত কমিটি আগুন লাগানোর জন্য স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করেছে৷ নয় জনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে৷

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ লক্ষ ডলারের একটি জরুরি তহবিল গঠন করেছিল৷ অর্থের পরিমাণ দ্বিগুন করার কথাও বিবেচনা করছিল৷ কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছিল কিক৷

মামলায় রায়ের আগে একজন বাদীর আইনজীবী রেমো ক্লিঙ্গার বলেছিলেন, ঐ কারখানার আগুন নেভানোর ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা, সেটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেয়নি কিক৷ তাই এত মানুষের মৃত্যুর জন্য তারাও দায়ী৷

এদিকে রায়ের পর বাদীদের একজন সাঈদা খাতুন বলেন, ‘‘আমি খুবই দুঃখ পেয়েছি, কারণ, আদালত আমাদের কথা শোনেননি৷ আমরা আমাদের সন্তানদের হারিয়েছি৷ মনে হচ্ছে, কেউ গরিব শ্রমিকদের নিয়ে ভাবে না৷ কোম্পানির পক্ষে এই রায় হয়েছে৷ কিন্তু আমি আমার অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো৷’’

উল্লেখ্য, বার্লিনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর কন্সটিটিউশনাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ বাদীদের সহায়তা করছে৷ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি৷ -খবর ডয়চে ভেলের