ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৩৬ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বিএনপি
বিএনপি

ঐক্য হয়ে গেছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি’

বিএনপিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে কিভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যের কথা বলেনÑ সেই প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। একইসঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসনের আহ্বান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে জাতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। সরকারের এই দাম্ভিক অবস্থান দেশ ও জনগণের জন্য আরও বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

আজ দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, গতকালের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় ঐক্য ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়ে গেছে’ এবং ‘যাদের সাথে ঐক্য প্রয়োজন, তাদের সাথে ইতোমধ্যে ঐক্য হয়ে গেছে’ বলে যে বক্তব্য রেখেছেন তা জাতিকে হতাশ করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, নির্লিপ্ততা এবং দায়িত্বহীনতা ও ভ্রান্ত নীতির কারণে সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিএনপি শুরু থেকেই সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানালেও সরকার তাতে কর্ণপাত না করে কোন ঘটনা ঘটলেই তার দায় বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে। অহেতুক বিরোধী দলের হাজার হাজার নিরপরাধ নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে প্রকৃত অপরাধীদের তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে।

তিনি বলেন, সারা দেশে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং সমাজে অনাকাঙ্খিত অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি গুলশানে একটি রেস্তোরায় সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার থেকেই দেশের ভাবমূর্তি ও জনগণকে রক্ষার জন্যই দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহবান জানিয়েছিলেন। দলমত নির্বিশেষে সকলের আশা ছিল- সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসবে। এখনও জাতি সেই আশায় আছে। কিন্তু গতকাল প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেনÑ তাতে জাতি হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ বার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর সমর্থনধন্য বিএনপিকে বাদ দিয়ে কিভাবে জাতীয় ঐক্য সম্ভব? কি করে সম্ভব অন্যান্য দেশপ্রেমিক দলকে বাইরে রেখে জাতীয় ঐক্য গড়া? প্রধানমন্ত্রী যে ঐক্যের কথা বলেছেন তা সরকারে আসীন দলগুলোর এমনকি মহাজোটেরও ঐক্য নয়। আর বিএনপিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে কিভাবে তিনি জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন ? সরকারের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ব্লেম গেইম নয়, দেশের নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তি, জননিরাপত্তার স্বার্থে পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং জন আকাক্সক্ষা অনুধাবন করে দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে দেশ ও জাতিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যত থেকে রক্ষা করুন।

গুলশান-শোলাকিয়ার ঘটনার বিষয়ে তারা আগেই অবগত ছিলেনÑ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, তিনি বা তার সরকার আগে থেকেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেননি কেন? এমন একটি মারাত্মক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানা থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে উপযুক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে সরকারি ব্যর্থতার জন্য এতগুলো দেশী-বিদেশী মানুষ যে অকালে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো-তার দায়ভার কে নেবে ? আগেই তথ্য পাওয়ার পরেও যে সরকার এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়, সেই সরকারের সামর্থ্য ও আশ্বাসে জনগণ কতটা নির্ভর করতে পারে?

তিনি বলেন, শুধু প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই যে এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করা যায় না- গুলশান ও শোলাকিয়ায় তা’ আবার প্রমাণিত হলো। এমন বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই   বেগম খালেদা জিয়া শক্তিশালী গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দলমত নির্বিশেষে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়েছেন। এই আহবান শুধু সময়োচিত নয়- বাস্তবতার নিরিখে অনিবার্য। কিন্তু  ক্ষমতার মোহে বর্তমান সংকটের গুরুত্ব স্বীকার করতে চায় না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করার প্রস্তাবের তাই বিরোধিতা করছে। সরকারের এই দাম্ভিক অবস্থান দেশ ও জনগণের জন্য আরও বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে।  তাই সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও কার্যকর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য  বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে সম্মত হোন। শুধু ক্ষমতাসীনদের ঐক্য সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমন করতে পারেনি – বরং তা বৃদ্ধি ও বিস্তৃত করেছে। শুধুমাত্র সকল দল মতের কার্যকর ঐক্য তা হ্রাস, সংকুচিত ও নি:শেষ করতে পারবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।