Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৫৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

এ বাজেট বাস্তবায়ন দেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন দেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
তিনি আজ সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তৃতায় একথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য সকল নাগরিকের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার দিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আবুল মাল আব্দুল মুহিত সমাপনী বক্তৃতায় প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে বলেন, এ সমালোচনা বাজেট সংস্কার ও বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। তিনি বাজেট উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়নে সংশয় রয়েছে এমন সমালোচনার জবাবে বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতির শক্তি সামর্থ্য এবং সরকারের নেতৃত্বের চৌকষতা ও গতিশীলতায় সংশয়বাদীদের সকল সংশয় অমূলক প্রমাণিত করে দেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। অনুকূল বিশ্ব ও জাতীয় বাস্তবতা আর সকলের সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টায় সকল সন্দেহের অবসান হবে এবং এবারও কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের এই অভিযাত্রায় সকলের নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম এবং আন্তরিক সহযোগিতা সরকারের চলার পথকে নিষ্কন্টক করবে।
অর্থমন্ত্রী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে সমালোচনার জবাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ অর্জনের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক।
তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বড় একটা সময় জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনীতির প্রায় সকল খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ২০০৯ থেকে সরকারের শুরু করা অর্থনৈতিক সংস্কার দেশকে যে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তার সুবাদে এসব ক্ষতি সামলে নিয়ে এই বিরূপ পরিস্থিতির মাঝেও ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ ছিল না। তা সত্ত্বেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬.৫১ শতাংশ। রাজনৈতিক সুস্থিতি বজায় থাকলে আগামী অর্থবছরে ৭ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সুস্থির হয়েছে। ফলে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তিগত দক্ষতার উন্নয়ন ঘটায় উৎপাদনশীলতাও বাড়ছে। বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে বাণিজ্য সহযোগী দেশসমূহের মধ্যমেয়াদি দৃশ্যকল্পও নিকট অতীতের তুলনায় অনেক বেশি অনুকূল। কাজেই, নিট রপ্তানি এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধির গতিও বাড়বে। ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ, রপ্তানি ও আমদানি প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের বিগত বছরগুলোর অর্জনের ভিত্তিতেই ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১শ’ কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজস্ব আহরন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় জনবলের সমাহার ঘটানো ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে গত ৬ বছরের অর্জন বিগত ২৬ বছরের অর্জনের সমান।
অর্থমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবির বিষয়ে বলেন, এই দুইটি খাতেই সরকার প্রতি বছর বরাদ্দ বাড়িয়েছে। যদিও জাতীয় আয়ের হিস্যা হিসাবে তা তেমন বাড়ছে না। এর কারণ হিসাবে তিনি বিগত সময়ে বিদ্যুৎ- জ্বালানী ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে সরকারকে অতিরিক্ত মনোযোগ ও বরাদ্দ দিতে হয়েছে। এ দু’খাতের অনেক উন্নতি হয়েছে। এ উন্নতি না হলে দেশ বর্তমানের অবস্থায় পৌঁছতো না।
বাজেট বক্তব্যে তিনি তার কর প্রস্তাবের কিছু খাতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর যে বিষয়ে অনুরোধ করেছেন তা নির্দেশ হিসাবে সেসব অনুরোধ গ্রহণ করে নেন। এ ক্ষেত্রে তিনি হেপাটাইটিস-বি ওষুধের আমদানির ওপর এবং ক্যান্সার এর ওষুধের কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ মূসক হ্রাস করে ৭.৫ শতাংশ করেন। একইভাবে ইউনানী, আয়ুর্বেদ ও ভেষজ ওষুধের ওপর প্রস্তাবিত কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন।
অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী পোল্ট্রি ফার্মের ওপর ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত এবং ২১ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ৫ শতাংশ ও ৩০ লাখের অধিক অংকের অর্থের ১০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন। পোশাক শিল্পে উৎসে কর প্রস্তাবিত দশমিক ৮০ থেকে হ্রাস করে পূর্বের ন্যায় দশমিক ৬০ শতাংশ করা হয়। মৎস্য, হাস মুরগী ইত্যাদি খামারের ওপরও প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী অর্জিত অর্থের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত, ২০ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত শতকরা ৩ ভাগ এবং ৩০ লাখের ওপর শতকরা ১০ ভাগ করারোপের করা হয়।
এছাড়াও অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি কর প্রস্তাব সংশোধনের প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন আবাসন খাত, ব্যক্তি ও অংশীদারী ব্যবসা খাত, চিনি, চালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে আমদানি খাতে কর হ্রাসসহ বিভিন্ন পণ্যে কর প্রস্তাব পরিবর্তন করেন। পরে অর্থ বিল পাসের মধ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।