ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৩৯ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

এসডিজি অর্জনে সহযোগিতা বাড়ানোর আহবান স্পিকারের

স্পিকার ও সিপিএ’র চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় সহযোগিতা বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।
তিনি আজ ঢাকায় একটি হোটেলে দু’দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় স্পিকারস সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের অভিজ্ঞতার আলোকেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে একসাথে কাজ করতে হবে।
‘ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস’ এর সহযোগিতায় ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ‘এ্যাসিভিং সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। আইপিইউ’র সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি এতে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ছাড়াও ভারতীয় লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, মালদ্বীপের স্পিকার আবদুল্লাহ মাসিহ মোহাম্মদ, ভূটানের স্পিকার জিগমে জ্যাংপো ও আফগানিস্থানের স্পিকার আব্দুর রউফ ইব্রাহিমী বক্তৃতা করেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতেৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অনেকগুলোই অর্জন করেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি, জেন্ডার বৈষম্য নিরসনসহ অনেক খাতেই সফলতার সাথে লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এছাড়া দারিদ্রের হার হ্রাস ও মানবউন্নয়নসহ অন্যান্য সূচকেও বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রায় প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশ জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও দারিদ্রকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে তা মোকাবেলা করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোকেও এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এসডিজি অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। এ জন্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পারিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে জলবায়ূ পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, দারিদ্র বিমোচন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্ব স্ব দেশের সংসদ তথা সংসদ সদস্যগণের নীতি নির্ধারন, কর্মসূচি বা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার বক্তৃতায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) নিশ্চিত করতে নিজ নিজ দেশের সংসদ সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করনের মাধ্যমে গৃহিত এজেন্ডা ও লক্ষ্যসাত্রাসমূহ বাস্তবায়ন করার আহবান জানান।
তিনি আরও বলেন, স্ব স্ব দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।
ভারতীয় লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নিজস্ব জাতিসত্ত্বা ও গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে জয়ী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যের দিকে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অজর্নে অনেকগুলো ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সফল হয়েছে। তিনি বলেন,এ অঞ্চলের দেশগুলো জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমস্যা চিহ্নিত করে পারস্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। বক্তৃতায় তিনি তার দেশের অর্জিত সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সমস্য চিহ্নিত করে তা মোকবেলা ও পারস্পারিক অভিজ্ঞতা বিািনময় এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে দেশগুলোর সংসদ ও সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
অন্যান্য স্পিকারগণ সম্মেলনকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সেতুবন্ধন ফোরাম উল্লেখ করে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। তাই এই ইস্যুতে সারাবিশ্বকে তাদের পারষ্পরিক সহযোগিতা প্রদান, অভিজ্ঞতা বিনিময়, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেজ্ঞসমুহ মোকাবেলা এবং প্রত্যেক দেশের উত্তম চর্চাগুলো বিনিময়ের মাধ্যমে এসডিজি অর্জনে কাজ করতে হবে।
সম্মেলনে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ,সচিববৃন্দ, মিশন প্রধানগনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ এশীয় স্পিকারস সম্মেলন আগামীকাল ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হবে। সমাপনী দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।