Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:৩৩ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

এডিবি বংলাদেশে ঋণ বাড়াবে

এশিয়ায় ২০১৫ সালে এডিবি’র সর্বোচ্চ ঋণ অনুমোদন

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০১৫ সালে এশিয়ার উন্নয়নের জন্য ২৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমোদন করে। এর মধ্যে ঋণ এবং মঞ্জুরি কারিগরি সহায়তা এবং কো-ফাইনান্সিং রয়েছে। এ যাবতকালের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ বরাদ্দ। ২০১৪ সালে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছরে চেয়ে এ বছর প্রায় ১৯ শতাংশ বরাদ্দ বেড়েছে।
আজ প্রকাশিত এডিবি’র নিউজ রিলিজে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এডিবি’র ঋণ ও মঞ্জুরির অনুমোদন ১৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন থেকে ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে আগের বছর থেকে। এতে বলা হয়, ২০১৫ সালে কারিগরি সহায়ায় ১৪৪ মিলিয়ন এবং কো-ফাইনান্সিং ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০১৫ সালে ১৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়নের মধ্যে সভরেইন লোন এবং মঞ্জুরি অনুমোদন ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। নন-সভরেইন অনুমোদন ২০১৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৪ সালে ছিল ১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এডিবি সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ৪০ শতাংশ নন-সভরেইন অনুমোদন দিয়েছে।
এডিবি ফাস্ট ট্রাক অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করেছে। এডিবি প্রাইভেট সেক্টরে ঋণ প্রদানে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহার করছে এবং এই ঋণ সহায়ায় স্থানীয় মুদ্রায় বন্ড ইস্যুর পরিমণ বাড়িয়েছে। ২০১৫ সালে ঋণ ও মঞ্জুরি বিতরণের পরিমাণ ১২ দশমিক ৩৫ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে ২১ শতাংশ বেড়েছে।
এডিবির প্রেসিডেন্ট তাকেহিকোনাকাও বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিগত বছরে ব্যাংকের ঋণ প্রবাহ ছিল সর্বাধিক এবং এ অঞ্চলে ঋণ চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অঞ্চলে অবকাঠামো এবং অন্যান্য উন্নয়ন কাজ বাড়ছে। অঞ্চলে দারিদ্র্য থাকলেও ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। তাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমাদের ঋণ সহায়তা বৃদ্ধি করতে হয়েছে। এডিবির বার্ষিক ঋণ ও মঞ্জুরি অনুমোদন ক্ষমতা ২০২০ সালের মধ্যে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ বিলিয়ন ছাড়াবে।
বিগত বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে এপ্রিলে নেপালে ভূমিকম্পে এবং মার্চে সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেয়ার বিষয়টি এতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
কাজাকস্তান ও মঙ্গোলিয়ার মতো দেশে আর্থিক বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে মূল্যের কারণে জনদুর্ভোগ সামাল দিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেয়া হয়।

২০১৫ সালে প্রথম যেসব বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক জলবায়ু সংক্রান্ত ব্যাপক অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এডিবি ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এডিবি তার বার্ষিক জলবায়ু অর্থায়ন বর্তমান তিনশ’ কোটি ডলার থেকে দ্বিগুণ করে ২০২০ সাল নাগাদ ৬শ’ কোটি ডলার করার ঘোষণা দেয়। এডিবি তার জলবায়ু কার্যক্রমের সমর্থনে প্রথম সবুজ বন্ড ইস্যু করে। এডিবি বেইজিং-তানজিন হেবেই অঞ্চলের বায়ুমান বাড়াতে গণচীনে তার প্রথম নীতিভিত্তিক ঋণ অনুমোদন দেয়।
অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রাইভেট সেক্টরে কার্যকরভাবে অর্থ সম্পদ আহরণ ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতায় সহায়তার জন্য এডিবি একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিষয়ক কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। এই অফিস ফিলিপিনের নর্থ-সাউথ রেলওয়ে প্রকল্পের ন্যায় এ অঞ্চলের পিপিপি প্রকল্পসমূহের জন্য এ্যাক্টিভ ট্রানসেকশন এডভাইসরি সার্ভিসের প্রস্তাব দেয়।
এডিবি কাউন্ট্রি প্রোগ্রামিং প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ ও ক্রয়ের প্রণালী সহজতরকরণে আরো অগ্রগতি অর্জন করে। অন্যতম দৃষ্টান্ত ছিল বিশেষভাবে ক্ষুদ্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশগুলোর জন্য ক্রয় ব্যবস্থা।
এডিবি মাঠ পর্যায়ে তার দায়িত্বশীলতা বাড়াতে এর ৩১টি ফিল্ড অফিসে বৃহত্তর সম্পদ ও অধিক কর্তৃত্ব অর্পণ করে।
ম্যানিলা ভিত্তিক এডিবি ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশগতভাবে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সংহতির মাধ্যমে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের দারিদ্র্য হ্রাসে কাজ করছে।
১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে এ অঞ্চলের ৪৮টি দেশসহ মোট ৬৭ সদস্য রয়েছে।