ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৩১ ঢাকা, বুধবার  ২৩শে মে ২০১৮ ইং

এলজিইডি রাঙ্গামাটি

এলজিইডিতে সড়ক সংস্কারের নামে প্রক্কল্পের টাকা লুটপাট

এলজিইডির রাঙ্গামাটি শহরের অভ্যন্তরীণ একটি সংযোগ সড়ক উন্নয়ননের নামে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে প্রক্কল্পের টাকা ঠিকাদার – প্রকৌশলী মিলে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।  জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রথমে ৯৫ লাখ টাকায় শহরের আসামবস্তি-ভেদভেদী সড়কের ৩৭০ মিটার সড়কের উন্নয়ন কাজের দরপত্র দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) রাঙ্গামাটি জেলা বিভাগ। কাজটি পায় চট্টগ্রামের নুর সিন্ডিকেট নামে একটি ঠিকাদারি সংস্থা। কিন্তু ওই সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতে কাজটি বাস্তবায়নে নেমেছেন স্থানীয় ঠিকাদার সাইদুল হক টিপু। কার্যাদেশ পাওয়ার পর এলজিইডির সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিগ্রস্ত ঠিকাদারদের যোগসাজশে যেনতেনভাবে অতি নিম্নমানের কাজ করে কাজের অর্ধেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ঠিকাদারি কর্তৃপক্ষ। তাই কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই সামান্য বৃষ্টিতে বাস্তবায়নাধীন ওই সড়কটির একাধিক অংশ ধসে পড়েছে। ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে যেনতেনভাবে কাজ করাই এর মূল কারণ বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার লোকজন।
অনুসন্ধানেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের সূত্র ধরে শহরের আসামবস্তি-ভেদভেদী সড়ক উন্নয়ন (৩৭০ মিটার) কাজ সরেজমিন প্রত্যক্ষ করা গেছে, সড়কটির সংস্কার কাজ এক প্রকার প্রায় শেষ। ওই অবস্থায় সামান্য বৃষ্টিপাতে সড়কের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। ভরাট করা মাটি সরে গিয়ে রাস্তার বিশাল অংশজুড়ে ক্ষত ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে- যা যানবাহন চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কাজ হয়েছে একেবারে নিম্নমানের। সিডিউলে যেভাবে কাজ করার শর্ত উল্লেখ রয়েছে বাস্তবায়নের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। ভরাট কাজে এঁটেল মাটির পরিবর্তে দেয়া হয়েছে লাল রঙের স্থানীয় বেলে মাটি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সব মাটি সরে গিয়ে সড়কের নানা স্থানে ভয়াবহ ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তারা অভিযোগ করে বলেন, কাজের বরাদ্দের অর্ধেক টাকাও খরচ করা হয়নি। অর্ধেক টাকা চলে গেছে ঠিকাদার ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকৌশলীদের পকেটে। সড়কের পুরো কাজ নড়বড়ে অসমাপ্ত। অথচ কাজ শেষ দেখিয়ে গত জুনেই চূড়ান্ত বিল প্রস্তুত ছিল। তার আগেই কাজের ১ কোটি ৫ লাখ টাকার মধ্যে ৯০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে ঠিকাদারকে। ওই বিলের বড় অংশ পার্সেন্টেজ নিয়েছেন রাঙ্গামাটি এলজিইডির সংশ্লিষ্ট সকল প্রকৌশলীরা । তারা অস্বাভাবিক হারে পার্সেন্টেজ আদায় করে সড়ক উন্নয়ননের নামে প্রক্কল্পের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে পকেটস্থ করেছেন, সেই লুটপাটের কারনেই কাজের মান সন্তোষজনক হয়নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির রাঙ্গামাটি নির্বাহী প্রকৌশলী আদনান আখতারুল আজম গণমাধ্যমকে বলেন, কাজের কোনো ত্রুটি হয়নি। এখানে কোনো রকম অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ নেই।