Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:২৩ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

এমপি আমানুর রহমান খান রানা এবং তার তিন ভাই।

‘এমপি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হুলিয়া’

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছেন আদালত।

একইসঙ্গে সব আসামির অস্থাবর মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার বিকালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট গোলাম কিবরিয়া এ আদেশ দেন।

অন্য আসামিরা হলেন- এমপি রানার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, এমপিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, দারোয়ান বাবু ওরফে দাঁত ভাঙ্গা বাবু, যুবলীগের তৎকালীন নেতা আলমগীর হোসেন চাঁন, নাসির উদ্দিন নুর, ছানোয়ার হোসেন ও সাবেক কমিশনার মাসুদুর রহমান।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত টাঙ্গাইল সদরের বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা আজ হাজির না হওয়ায় আদালত এ হুলিয়া দেন। সেই সঙ্গে সব আসামিকে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে আদালতে হাজিরেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল কোর্ট ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, পলাতক ১০ জন আসামির মধ্যে নয়জনের মালামাল ক্রোকের আদেশ টাঙ্গাইল থানায় ও বাকি একজনের আদেশ কালিহাতী থানায় পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি নাজমুল হক ভূইয়া জানান, আসামিদের মালামাল ক্রোকের আদেশ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার কাছে আদেশপত্র আসেনি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি খান পরিবারের চার ভাইসহ ১৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এদের মধ্যে চারজন জেলহাজতে রয়েছেন; তারা হলেন- আনিছুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী, সমীর মিয়া ও ফরিদ আহমেদ।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রানা ও তার ছোট ভাই বাপ্পা তাদের কলেজপাড়া বাসভবনের কাছে গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে আনিছুল ইসলামের (এমপির ঘনিষ্ঠ) মাধ্যমে ফারুক আহমদকে ডেকে আনান বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

সেখানে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থিতা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন বাপ্পা। কিন্তু তিনি রাজি হননি। এক পর্যায়ে তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে শৌচাগারে যান।

শৌচাগার থেকে ফেরার পথে কবির হোসেন (এমপির ঘনিষ্ঠ) পিস্তল দিয়ে ফারুক আহমদকে গুলি করেন। এরপর এমপি আমানুরের নির্দেশে আনিছুল, মোহাম্মদ আলী, আবদুল হক, সমীর ও কবীর তার মরদেহ তার বাসার সামনে ফেলে আসেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী।