ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:১১ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘এমপি-মন্ত্রী কেউ টিকে থাকতে পারবেন না যদি রাস্তায় নামে বস্তিবাসী’

অতিসত্বর বস্তি উচ্ছেদ বন্ধ, উচ্ছেদকৃতদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে কল্যাণপুর পোড়াবস্তির বাসিন্দারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বস্তিবাসী রাস্তায় নামলে এমপি-মন্ত্রী কেউ আর নিজেদের পদে টিকে থাকতে পারবেন না। ‘আজ দেশে আধুনিক জমিদারি প্রথা বিরাজমান। জনগণের করের টাকায় মন্ত্রী-আমলাদের আরাম-আয়েশ। আর জনগণ বস্তিতেও থাকতে পারে না। মানববন্ধনে বক্তারা কল্যাণপুর বস্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকে নগদ তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে নগদ প্রদানের দাবি জানান।

bosti1

শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা এ সব কথা বলেন।

তারা বলেন, জনগণের ভোটে এমপি-মন্ত্রী নির্বাচিত হয়। তাদের সুযোগ-সুবিধা দেখার জন্যই ভোটাধিকার বলে জনগণ এমপি-মন্ত্রী বানায়। গরিব, খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই চায়। যদি এ সামান্য চাওয়াটুকু তারা ছিনিয়ে নেন, তাহলে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে বস্তিবাসীরা।

স্বাধীনতার উদ্দেশ্য তুলে ধরে ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, পাকিস্তানি হানাদার থেকে মুক্তি পেতে এদেশের সাধারণ মানুষ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। যাদেরকে আপন মনে করেছেন, তারাই ভিটেছাড়া ঘরছাড়া করেছে। ‘আমরা কোথায় যাব?’ এ প্রশ্ন ছুড়ে দেন তারা।

বক্তারা জানান, ঢাকা শহরের প্রায় ৪৫% মানুষ বস্তিতে থাকে। সে হিসেবে বস্তিবাসীর সংখ্যা  ৭০ লাখ। প্রত্যককেই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর জোর দেন তারা। বলেন, আর যেন একটি বস্তিতে কেউ আগুন দিতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেরডারেশনের (টাফ) ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি ফয়জুল হাকিম।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন সংগঠনটির ঢাকা অঞ্চলের সম্পাদক আবদুস সাত্তার, সভাপতি জিয়া উদ্দিন। ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন শেফালী বেগম, আজহার, আনোয়ার, জয়নাল প্রমুখ।