ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৫০ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

এমপিরপুত্র নারীসহ উদ্ধার, গণপিটুনি

সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সাতক্ষীরার রিফাত আমিনের ছেলে রাশেদ সরোয়ার রুমনকে এবার পিটুনি দিয়েছে লোকজন। খবর পেয়ে এক তরুণীসহ তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নানসহ অন্যরা।

আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের বাঁশতলা এলাকার একটি বাগানবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সাতক্ষীরা পৌরসভা চত্বরে কাটিয়া এলাকায় জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জুলফিকার রহমান উজ্জ্বলকে রড দিয়ে পেটান রুমন। তাঁকে বাঁচাতে গেলে আরো তিন যুবককে পেটান রুমন ও তাঁর সঙ্গীরা। ঘটনার পর উজ্জ্বলকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরার ভোমরায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন রুমন। এতে তিনি অক্ষত থাকলেও দুমড়েমুচড়ে যায় তাঁর মায়ের ব্যবহৃত মিনি পাজেরো (ঢাকা মেট্রো ঘ ১৫-১৬৩০)। ঘটনার পরপর রুমন দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান।

লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল হান্নান গণমাধ্যমকে জানান, সকালে জানাজানি হয় যে রুমন এক তরুণীসহ তার এলাকার মিলন পালের বাগান বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। তার বন্ধু মিলন বর্তমানে সোনা চোরাচালান মামলায় জেলে আটক রয়েছে।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে সেখানে যেতেই দেখি কাটিয়া এলাকার বহু মানুষ। তারা রুমনকে খুঁজছেন। রুমন মারধরের ভয়ে রুমের ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেয়।

আবদুল হান্নান আরও জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। পুলিশও সাধ্যমত চেষ্টা করে রুমনকে রুম থেকে বের করার। কিন্তু তারা ব্যর্থ হন।

তিনি বলেন, এর কিছু সময় পর জেলা যুবলীগ নেতা আবদুল মান্নান সেখানে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তামিম আহমেদ সোহাগ ও যুবলীগ পৌর কমিটির আহবায়ক মনোয়ার হোসেন অনু।

তারা তাকে রুম থেকে বের করতেই শুরু হয়ে যায় এলোপাতাড়ি গণপিটুনি। গ্রামবাসী রুমনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় রুমন মাটিতে পড়ে যায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলে নিয়ে যান যুবলীগ নেতা আবদুল মান্নান। অজ্ঞাত সেই তরুণীকেও নিয়ে যান তিনি।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, ‘রোববার রাতে যুবলীগ নেতা জুলফিকার রহমান উজ্জ্বলকে হত্যার উদ্দেশে মারধরের ঘটনায় রুমনকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। এই মামলায় তাকে গ্রেফতারের জন্য এসআই রফিক ও এএসআই পাইক দেলোয়ারকে পাঠানো হয় মাগুরা বাঁশতলার সেই মিলন পালের বাগানবাড়িতে। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি।’