গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

এফ আর টাওয়ার: জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব : পূর্তমন্ত্রী

রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারের অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত রাজউকের কর্মকর্তাসহ যারা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

আজ বুধবার সচিবালয়স্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিদূর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রেজাউল করিম বলেন, ‘তদন্তে রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিদর্শক পর্যন্ত, রেজিস্ট্রার ব্যবস্থাপনায় যারা ছিলেন, যারা ঋণ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন তাদের সকলকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ঘটনায় জড়িত হিসেবে রিপোর্টে এসেছে, তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তি হিসেবে আমাদের কাছে অনেক সাক্ষ্য-প্রমাণাদি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তদন্তে অনেকগুলো অনিয়ম সনাক্ত হয়েছে, সবমিলে আমরা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি তাদের অভিযোগের থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ নেই।

পূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯০ সালে এফ আর টাওয়ারের ১৫ তলা পর্যন্ত ভবনের অনুমোদন সঙ্গত ছিলো। পরবর্তীতে ১৫ তলা থেকে ১৮ তলা পর্যন্ত নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া যথাযথ ছিলো, কিন্তু অনুমোদকালীন বিদ্যমান বিধির আওতায় অনুমোদন দেয়া হয়নি, আবেদনকালীন বিদ্যমান আইনের আওতায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে আইনগত বিষয়ের ব্যত্যয় ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ১৮ তলার উর্দ্ধে ভবনের সকল তলা সম্পূর্ণরুপে অবৈধ। এফ আর টাওয়ার কর্তৃপক্ষ একটি প্ল্যানের অনুমোদিত কপি দেখানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু রাজউকের রেকর্ডে কোথাও তার কোনো অস্তিত্ব নেই। রাজউকের কাছে সংরক্ষিত নথিতে মূল প্ল্যানেরও কোনো কপি নেই।’

রেজাউল করিম বলেন, এফ আর টাওয়ারের অবৈধভাবে নির্মিত অংশ ভেঙ্গে ফেলার জন্য আইনগত প্রক্রিয়ায় আমরা কাজ শুরু করেছি। এক্ষেত্রে আমরা আইন অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

রাজউক থেকে বহুতল ভবনের অনিয়ম চিহ্নিত করার জন্য ২৪টি পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকল বিল্ডিং পরিদর্শন করবো। প্রাথমিকভাবে বহুতল ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে। বহুতল ভবনের ভেতরে এ পযন্ত রাজউক অনেুমদিত নকশা আছে এমন ভবন পাওয়া গেছে ১১৩৬টি, রাজউক ব্যতীত অন্যান্য সংস্থা অনুমোদিত নকশা আছে এমন ভবন ২০৭টি, ভবন মালিকরা রাজউক অনুমোদিত নকশা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে এমন ভবনের সংখ্যা ৪৩১টি,এবং সরকারি ভবনের নকশা প্রদর্শন করা হয়েনি এমন ভবন ৪৪টি।’

তিনি বলেন, ‘নিদিষ্ট সময়ে নকশা প্রদর্শনে ব্যর্থ ভবনের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যত্যয়কৃত ভবনের অনিয়মকৃত অংশ ভেঙ্গে ফেলার জন্য আমরা নির্দেশ দেবো। ভেঙ্গে না ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখিয়েছি। রাজউকের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সম্পৃক্তদের নাম উল্লেখ করে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। কাজেই আপনারা আস্বস্থ থাকতে পারেন আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যারাই অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনভাবেই কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই’।

প্রয়োজনে আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত ভাবে জানাবো। যারা অবসরে গেছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য প্রক্রিয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা এখনো কর্মরত আছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইয়াকুব আলী পাটওয়ারী, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসিরসহ তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।