ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৫৪ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘এফবিআই’র সন্দেহের তীর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মচারীদের দিকে’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীন কিছুটা সম্পৃক্ততা ছিল বলে সন্দেহ করছে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’র এক প্রতিবেদনে দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই’র বরাত দিয়ে এ দাবি করা হয়।

ব্যাংকের অন্তত একজন কর্মকর্তা চুরির ঘটনায় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বলে এফবিআই সদস্যরা এমন তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন, সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি এমনটি জানিয়েছেন।

ওই ব্যক্তি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিতে কয়েকজন কর্মকর্তা হ্যাকারদের সহযোগিতা করেছেন তথ্য-প্রমাণে এমন ইঙ্গিতও মিলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যাকাররা প্রায় একশ’ কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে যার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটারে অনুপ্রবেশ, আন্তঃব্যাংক অর্থ লেনদেনের বহু দাফতরিক নির্দেশনা এবং ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে জড়িত।

হ্যাকাররা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে ১০ কোটি ডলার সফলভাবে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত দুই কোটি ডলার উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেছেন, অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় এক বা একাধিক কর্মকর্তা সহযোগিতা করেছে বিষয়টি এফবিআই (তাদেরকে) অবহিত করেনি।

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং ব্যাংকের কারও সম্পৃক্ততা পেলে, আমরা যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।’

অবশ্য বাংলাদেশের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে বলে আসছেন, এজন্য সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন- সুইফট অংশত দায়ী। বিশ্বব্যাপী হাজারো ব্যাংকের মধ্যে লেনদনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা-প্রক্রিয়া পরিচালনা করে আসছে এ আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ককেও এজন্য দায়ী করে আসছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক হ্যাকারদের পাঠানো সন্দেহজনক ৩৫টি অর্থ স্থানান্তর নির্দেশনার পাঁচটি ছাড়া বাকিগুলো বাতিল করে দেয়।

মূলত এই পাঁচটি নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইন ও শ্রীলংকায় পাচার করা হয়। অবশ্য বানানে ভুল থাকায় শ্রীলংকায় পাঠানো দুই কোটি ডলার আটকে দেয়া হয় যা পরবর্তীতে বাংলাদেশকে ফেরত দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সুইফটের আইনজীবী এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের এক মুখপাত্র কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।