ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:৫৫ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

এফডিআর’র দেড়কোটি টাকা সিটি ব্যাংক থেকে হাওয়া

মাতৃভূমির প্রতি মমতা, বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাণিজ্য করার আশা নিয়েই বিদেশে কষ্টার্জিত অর্থ দেশের ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন লন্ডন প্রবাসী সৈয়দ আখলাক মিয়া।

কিন্তু হতাশাজনক হলেও সত্য, আখলাক মিয়ার সেই আশায় গুঁড়ে বালি দিয়েছে বেসরকারিখাতের দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড।

ব্যাংকটির সিলেটের জিন্দাবাজার শাখার ম্যানেজারসহ কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে আখলাক মিয়ার এফডিআর একাউন্ট ফাঁকা হয়ে গেছে তার অজান্তেই।

ভূয়া গ্রাহক সেজে সুদ-আসলসহ দেড়কোটি টাকা তুলে নিয়েছে প্রতারক কর্মকর্তারা। সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অভিযোগ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিন্দাবাজার শাখার তৎকালীন ম্যানেজার পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ২০০৮ সালের জুলাই মাসে ৭০ লাখ টাকা এফডিআর (হিসাব নং-৪১২২১৮৯৪০৫০০১) করে পরের দিন লন্ডনে চলে যান সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার পাহাড়িয়া উত্তর পীর মহল্লার সৈয়দ আখলাক মিয়া।

পরের বছর দেশে এসে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে দেখেন তার টাকা ঠিক আছে। আখলাকের এফডিআরে সুদ দেওয়া হয়েছে সাত লাখ সাতাশি হাজার ৫শ’ টাকা। ‍এরপর আবার লন্ডনে চলে যান তিনি।

২০১১ সালে প্রবাস থেকেই এফডিআরের হিসাব জানতে দ্য সিটি ব্যাংকের জিন্দাবাজার শাখায় চিঠি দেন আখলাক। ব্যাংক থেকে পত্র দিয়ে জানানো হয়, তার এফডিআর একাউন্টটি ক্লোজ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে লন্ডন থেকেই পত্র দিয়ে এফডিআর ক্লোজড’র কারণ জানতে চেয়ে টাকা ফেরত চান আখলাক। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপ‍া দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

প্রতারণার মাধ্যমে এফডিআর আত্মসাত করায় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি আকলাককে অবগত করে দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয় দ্য সিটি ব্যাংক।

কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে কয়েকবার দেশে আনা হলেও পুরো টাকা এখনো ফেরত দেয়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আখলাকের হিসাবমতে, সুদে-আসলে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৮ কিস্তিতে ৫৭ লাখ টাকা দিলেও বাকি টাকা দিতে এখন নানা রকম গড়িমসি করছে।

টাকা ফেরত পেতে তাই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন আখলাক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দ্য সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও প্রতারণা থেকে রেহাই পেতে একটি আবেদন করেন তিনি।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে কষ্টে উপার্জিত অর্থ ভবিষ্যতে দেশে বিনিয়োগ করার জন্য এফডিআর করেছিলাম। কিন্তু সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাত করেছে। টাকা ফেরত পাওয়া ও ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে আপনার আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আখলাক মিয়ার আবেদনটি অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠালে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি)  ও জনসংযোগ প্রধান মাশরুর আরেফিন বাংলানিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। খোঁজ খবর নিয়ে জানাতে হবে। এ খবর বাংলা নিউজের।

http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/471579.html