ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৫৯ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

এনবিআর চেয়ারম্যান নিয়োগে নাটকীয়তা

অনেক নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজিবুর রহমানকে। এর আগে এই নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল সরকারের শীর্ষ মহল। চেয়ারম্যান পদে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে শীর্ষ আমলারা বিকল্প প্রস্তাব করলে অর্থমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। এ অবস্থায় একাধিক সচিবের নাম আলোচনায় এলেও অর্থমন্ত্রীর অনমনীয়তায় বড় জটিলতার সৃষ্টি হয়।
বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের চুক্তির মেয়াদ ৮ জানুয়ারি শেষ হলে পদটি শূন্য হয়। এ অবস্থায় নজিরবিহীনভাবে ৯ জানুয়ারি থেকে চেয়ারম্যান ছাড়াই বিরল অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে রাজস্ব প্রশাসন। পরে রোববার বিকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক বিশেষ চিঠির মাধ্যমে নিজ ক্ষমতাবলে এনবিআরের সিনিয়র সদস্য (শুল্কনীতি) ফরিদ উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে বলে অর্থমন্ত্রী পত্রে উল্লেখ করেন। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরই প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮২ ব্যাচের এই কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্রমতে, অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব ছিল তার আগের প্রস্তাবমতো ফরিদ উদ্দিনকে সচিব করা সম্ভব না হলে রাজস্ব আদায়ের ধারাবাহিকতায় গোলাম হোসেনেরই চুক্তির মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস বাড়ানো হোক। এজন্য ৪ জানুয়ারি বিদেশ যাত্রার আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধাসরকারি পত্র দিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম হোসেনের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের এ দক্ষ কর্মকর্তা কমপক্ষে ৬ মাসের নিয়োগ পাচ্ছেন এমন প্রচারণা ওঠে জোরেশোরে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী বিদেশ থাকায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার সৃষ্টি হয়। একটি মহল তৎপর হয় গোলাম হোসেনের নিয়োগ ঠেকাতে। তারা তৎপর হন পছন্দের কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিতে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া এ পদে নিয়োগ দিতে অসম্মতি জানান।
সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন ক্যাডারসহ সরকারের সিনিয়র সচিবরা এনবিআর চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ঘোর বিরোধী। তারা চাইছেন বর্তমানে কর্মরতদের মধ্য থেকেই অধিকতর যোগ্য একজনকে এনবিআর চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে। এর পেছনে তাদের অন্যতম যুক্তি হচ্ছে, এনবিআরে নিজ দফতর থেকে নিয়োগ দেয়া হলে অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়বে। এছাড়া ভবিষ্যতে এটি দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং এ ধরনের দফতরগুলোর শীর্ষ পদের নিয়োগে এর প্রভাব পড়বে।
সূত্রমতে, এই টানাপোড়েনে আলোচনায় আসেন রাজস্ব প্রশাসনেরই আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা আবদুল কাদের সরকার। আবদুল কাদের সরকার আয়কর ক্যাডারে এনবিআরের সদস্য থেকে রাষ্ট্রপতির কোটায় পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী কোনো অবস্থাতেই কাদের সরকারকে এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে নারাজ। কাদের সরকারের নিয়োগ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর তীব্র আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত অন্য ৩ সচিবের নাম আসে। কিন্তু এ নিয়ে কোনো পক্ষেরই সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যায়ে বড় জটিলতার সৃষ্টি হয়।
অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা জানান, এনবিআর চেয়ারম্যান পদে পছন্দের দুই কর্মকর্তার নাম বিবেচিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অর্থমন্ত্রী। রাজস্ব আদায়ের বিশাল চ্যালেঞ্জ অর্জনে তিনি এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ চান না। তিনি প্রথমে প্রস্তাব করেন, বিসিএস কাস্টমস এক্সাইজ ক্যাডারের ১৯৮২ ব্যাচের সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য সচিব পদমর্যাদার এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দিনের নাম। কিন্তু প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিরোধিতায় তা কার্যকর করা যায়নি। এরপর গোলাম হোসেনের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও প্রভাবশালী মহলের চাপে কার্যকর করা যায়নি।